পতিব্রত শক্তিপদ আশ্রয়- ১/৩৪ বেদবাণী।
” সংসার চক্র উদয় অস্ত গতিভাবে অনবরত ঘুরিতেছে। এই ভ্রম শোধন জন্য ভগবান অর্থাৎ সহিষ্ণুতা শক্তির পরিণাম শক্তি শরণ দ্বারা শ্রদ্ধার উদ্বর্দ্ধন করিয়া লইতে হয়। লাভ অলাভ পিপাসা মুক্ত করিতে চেষ্টা করিতে হয়। সংসার প্রার্থনার আবরণে কেবলমাত্র বৃদ্ধিপাত্র হইয়া থাকে। যজনাদি ক্রীড়ার চর্চ্চায় তাহার নিবৃত্তি হয় না। কেবলমাত্র এক পতিব্রত শক্তিপদ আশ্রয় লইয়া অযাচনা ভাবে প্রতিক্ষা করিয়া যথাসাধ্য গুরোপদিষ্ট সত্য সাধনের জন্য স্থিতিবুদ্ধির আহরণ করিতে পুনঃ পুনঃ চেষ্টা করিতে করিতে নিশ্চয়াত্মিকা শক্তির বৃদ্ধি হইয়া কামনা বাসনা লুপ্ত হইয়া থাকে। তখন সকল অভাবই দূর হইয়া আনন্দ প্রকাশ হইয়া যায়।” – ১/৩৪ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপরোক্ত উপদেশ বাণীর মর্মার্থ অনুধাবন করতে হবে। সংসার চক্র বলতে মানুষের জীবনধারা উদয় অস্তের মত অনবরত ঘুরছে। থেমন সূৰ্য্য উদয় হয়ে আবার অস্ত যায় এবং পরের দিন আবার উদয় অস্ত হয়, তদ্রূপ মানুষের জীবনধারা। এভাবে মানুষের আয়ু ক্ষয় হতে থাকে এবং সেই সঙ্গে একবার সুখ ও পরে দুঃখ আসে। ইহাই সংসার চক্র। এ ভ্রম শোধনের জন্য ভগবানের শরণ নিতে হবে অর্থাৎ সহিষ্ণুতা শক্তি আহরণের জন্য ভগবানের অর্থাৎ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের শ্রীচরণ যুগলে সম্পূর্ণ সমর্পণ করতে হবে। তখন শ্রদ্ধা শক্তির জাগরণ হবে। সংসার = সম+ সার। শ্রী শ্রী ঠাকুরের নির্দেশ অনুযায়ী সর্ব জীবে সম ভাব অর্থাৎ দয়া ও প্রেম ভাবকে সংসার বলে। লাভ ও অলাভ সবই ত্যাগ করতে হবে। তবেই সংসারের সার্থকতা আসবে। সংসারে কামনা বাসনা প্রার্থনার আবরণ কেবল বৃদ্ধি করে। যজনাদি ক্রিয়ার চর্চায় তাহা নিবৃত্তি হয়না। তাতে সত্য বস্তু গোচরে আসে না। একমাত্র পতিব্রত শক্তি পদ আশ্রয় নিয়ে অযাচনা ভাবে অর্থাৎ কোন রকম প্রার্থনা না করে প্রতিক্ষা করে শ্রীগুরু প্রদর্শিত সত্য পথ যথাসাধ্য দৃঢ়ভাবে আঁকরে ধরে সত্য অর্থাৎ পরমাত্মাকে জানার প্রচেষ্টা করতে করতে স্থিতি বুদ্ধি শক্তির আহরণ করে বারংবার চেষ্টা চালিয়ে নিশ্চয়াত্মিকা শক্তির বৃদ্ধি হলে কামনা বাসনা সব বিলুপ্ত হয়। এ অবস্থা প্রাপ্ত হলে সকল অভাব দূর হয়ে যায়। এখানে নিশ্চয়াত্মিকা শক্তি বলতে বুঝায় পরমাত্মা শক্তির জাগরণ। আর তখন কেবল আনন্দই উৎপন্ন হয়। ইহাকেই পতিব্রত শক্তিপদ আশ্রয় বলে।
উপসংহারঃ- পতিব্রত শক্তিপদ আশ্রয় লাভ করতে হলে আমাদের সকলকে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ শিরোধার্য্য মেনে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে অর্থাৎ শ্রী গুরু প্রদত্ত শ্রীনাম শ্রদ্ধা, ভক্তি, শ্রী গুরু প্রতি দৃঢ় অন্ধ বিশ্বাস ও নিষ্ঠা সহকারে সর্বদা অহরহ অনবরত জপ করতে হবে। এভাবে এগিয়ে চলতে চলতে ভিতরের সকল ময়লা শ্রীনাম জপে ধৌত হয়ে পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং তখন কূল কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণ হবে। পরে নিশ্চয়াত্মিকা শক্তির জাগরণ হয়ে পতিব্রত শক্তি পদ আশ্রয় লাভ হবে। ইহা উল্লেখযোগ্য যে শ্রী গুরু কৃপা ব্যতীত এ শক্তি অৰ্জন করা সম্ভব নয়। তার জন্য দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ভগবানের তপস্যা করতে হবে।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।
নিশ্চয়ভক্তি – ১/৩৫ বেদবাণী।
” প্রারব্ধ ভোগের জন্য কোনরূপে চঞ্চল কি ভয় করিতে নাই। ভাগ্যে যাহা যাহা ভাল মন্দের যোগ হয় তাহা ভোগ করিতে নিশ্চয়ভক্তি অবশিষ্ট ভোগমুক্ত করিয়া সর্ব্বদা আনন্দ বর্দ্ধন করিয়া পরম শান্তি অবিচ্ছেদ রসের তরঙ্গায়িত করিয়া লয়। অতএব সর্ব্বদা যখন যেমনই অবস্থার উদয় হউক না কেন সহিঞ্চুতার দ্বারা সর্ব্বদা সহ্য করিয়া লইবেন৷ সর্ব্বদাই ভগবৎ সেবার জন্য দৃঢ় আলিঙ্গন শক্তির বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করিবেন।” – ১/৩৫ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপরোক্ত উপদেশ বাণী উপলব্ধি করতে হবে। এখানে প্রারব্ধ = প্রা+র+ ৰূ। প্ৰা বলতে প্রাক্তন , র বলতে রত ও ব্ধ বলতে লব্ধ ভোগ নির্ধারিত বোঝায় অর্থাৎ প্রাক্তন জনিত ভোগ নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভোগ একত্রিত প্রাপ্ত ভোগ নির্ধারিত। তাই প্রারৰূ ভোগের জন্য কোনরূপ চঞ্চলতা বা ভয় করতে নেই। ভাগ্য জনিত ভাল মন্দ ভোগ যাহাই আসুক না কেন তাতে চিন্তা করে লাভ নেই। নিশ্চয় ভক্তির মাধ্যমে অবশিষ্ট ভোগ মুক্ত হয়ে যায়। নিশ্চয় ভক্তি বলতে গাঢ় বা বিশুদ্ধ ভক্তি বোঝায়। এতে পঙ্গুও পর্বতকে হিলাতে পারে। তাই জীবনের অবশিষ্ট ভোগ নিশ্চয় ভক্তির মাধ্যমে মুক্ত হয়ে সর্বদা আনন্দ বাড়িয়ে দেয় ও তখন পরম শান্তি নিত্যানন্দের অবিচ্ছেদ রস তরঙ্গের আকারে বইতে থাকে। তাই সর্বদা সহিষ্ণুতা শক্তি অর্জন করতে হবে এবং যখন যে অবস্থার সম্মুখীন হউক না কেন তাহা সহনশীলতার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। সর্ব্বদাই ভগবৎ সেবার জন্য দৃঢ আলিঙ্গন শক্তির বৃদ্ধি চেষ্টা করতে হয়। এখানে আলিঙ্গন শক্তি বলতে বোঝায় প্রেম, ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও একত্ব ভাব শক্তি। তাই ভগবৎ সেবার জন্য ভগবোনের সঙ্গে অর্থাৎ পরমাত্মার সঙ্গে মিলন হওয়ার জন্য দৃঢ় আলিঙ্গন শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে।
উপসংহার:- শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপরোক্ত গুঢ় অর্থ হল – আমরা যেন সরাই শ্রী গুরু প্রদত্ত “শ্রী নাম” অত্যন্ত নিষ্ঠা সহকারে দৃঢ় প্রত্যয় প্রতিজ্ঞ হয়ে সর্ব্বদা অহরহ অনবরত থে কোন অবস্থায় জপ করি এবং তবেই দৃঢ় আলীঙ্গন শক্তি বৃদ্ধি হয়ে অতি বিশুদ্ধ প্রেমের উদয় হলে তখন জীবাত্মা পরমাত্মার সঙ্গে লীন হবে। এ অবস্থায় কেবল নিত্যানন্দ প্রেম সাগরে ডুবে অমৃত রস আস্বাদন হবে। এ হল দৃঢ় আলিঙ্গন শক্তির মাহাত্ম।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।