Guru Pranam

গুরু প্রণাম।

ওঁ নমঃ শ্রী রামচন্দ্রায় মৃদুমধুর ভাষিণে।

সৌম্যশান্তাবতারায় তস্মৈ শ্ৰীগুরুবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর ভগবানের অবতার। তাঁর সৌম্য অর্থাৎ সুশীল, ধীর, স্থির, শান্ত ও মৃদু মধুর ভাষাতে ভক্তবৃন্দ মুগ্ধ। তাই হে প্রভু তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

সংসার বৃক্ষমারূঢ়া পতন্তি নরকার্ণবে।

যেনোদ্ধৃতমিদং বিশ্বং তম্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ মানুষ সংসার মায়ায় কামনা বাসনায় আবদ্ধ হয়ে মায়ার বৃক্ষে আরোহণ করে সত্যকে ভূলে ঘোর নরকে পতিত হয়। এ নরক থেকে শ্রীগুরু বিশ্বের মানবকে উদ্ধার করছেন। তাই হে প্রভু তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

গুরুর্ব্রক্ষা গুরুবির্বষ্ণু গুরুরর্দেদবো মহেশ্বরঃ।

গুরুরেব পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ শ্রীগুরু দেবই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর এবং শ্রীগুরুদেবই পরমব্রহ্ম। তাই হে প্রভু তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জনশলকয়া।

চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ মানুষ সংসার অজ্ঞানতার গভীর অন্ধকারে ডুবে আছে। সেই অন্ধব্যার থেকে শ্রীগুরুদেব নাম মন্ত্র প্রদান করে জ্ঞানের অঞ্জন শলাকা দিয়ে মানুষের চক্ষু উন্মিলিত  করেন ৷ তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

অখন্ডমন্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরম্।

তৎপদং  দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ শ্রীগুরুদের  অখন্ড মন্ডলকে জুড়ে আছেন অর্থাৎ বিশ্ব ব্রহ্মান্ড জুড়ে ব্যাপ্ত আছেন এবং আমাদেরকে সত্য অর্থাৎ পরম পদ লাভের পথ প্রদর্শন করান। তাই হে প্রভু তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

স্থাবরং জঙ্গমং ব্যাপ্তং যৎকিঞ্চিৎ সচরাচরম্।

তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ শ্রীগুরুদের স্থাবর, জঙ্গম সর্ব্বত্র পরিব্যাপ্ত আছেন এবং সামান্যতম বস্তুর মধ্যেও বিরাজমান । তিনি আমাদেরকে পরম পদ প্রাপ্তির জন্য পথ প্রদর্শন করান। তাই হে প্রভু শ্রী রাম  তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

চিন্ময়ং ব্যাপিতং সর্ব্বং ত্রৈলোক্যং চরাচরম্।

তৎপদং  দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু তুমিই চিন্ময় অর্থাৎ পরম জ্ঞানী ক্রিলোকে সর্ব্বত্র ব্যাপীত হয়ে বিচরণ করছ এবং আমাদেরকে পরমপদ প্রাপ্তির জন্য পথ প্রদর্শন করছ। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

সর্ব্বশ্রুতিশিরোরত্নবিরাজিত পদাম্বুজম।

বেদান্তাম্বুজসূৰ্য্যায় তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু তুমিই সর্ব্ব বেদের (শ্রুতি) জ্ঞানের চূড়ামণি এবং পদ্মফুলের মত অপূর্ব তোমার শ্ৰীচরণ যুগল। তুমিই বেদান্ত অম্বুজ সূর্য্য অর্থাৎ সমগ্র বেদের প্রস্ফুটিত জলপদ্ম সূর্য্যস্বরূপ। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

চৈতন্যং শাশ্বতং শান্তং ব্যোমাতীতং নিরঞ্জনম্।

বিন্দুনাদকলাতীতং তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু তুমিই শাশ্বত শান্ত পরম জ্ঞানী এবং ব্যোমের অতীত অর্থাৎ মহাশুন্যের অতীত। আবার তুমিই নিরঞ্জনম অর্থাৎ পরমাত্মা বা শিবের স্বরূপ পাপহীন। তুমিই বিন্দু ,নাদ  ও কলা এ তিনের অতীত অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টি কর্তা পরমাত্মা। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

জ্ঞানশক্তিসমারূঢ়ং তত্ত্বমালাবিভূষিতম্।

ভুক্তিমুক্তিপ্রদাতারং তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ হে প্ৰভু তুমিই জ্ঞান শক্তির পূর্ণ ভান্ডার ও তত্ত্বমালা দ্বারা বিভূষিত পরম শক্তির অধিকারী। আবার তুমিই পার্থিব ভোগ বিলাস ইত্যাদির মুক্তি দাতা। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

অনেকজন্ম-সংপ্রাপ্ত- কর্ম্মবন্ধবিদাহিনে।

আত্মজ্ঞানপ্রদানেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু তুমিই অনেক জন্ম মৃত্যুর হাত থেকে আমাদের পরিত্রাণ করে কর্ম্ম বন্ধন থেকে মুক্ত কর।  আবার তুমিই সত্য অর্থাৎ পরমাত্মাকে জানার জ্ঞান প্রদান কর। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

শোষনং  ভবসিন্ধুশ্চ জ্ঞাপনং সারসম্পদম্।

গুরো পাদোদকং সম্যক তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু তুমিই এ ভব সংসারের যাবতীয় সিন্ধু অর্থাৎ অস্থায়ী বস্তু শোষন করে সার সম্পদ অর্থাৎ পরম সত্যকে জানার জ্ঞান প্রদান করছ। আবার শ্রীগুরু শ্রী চরণ যুগল ধৌত পবিত্র জলের সমান এ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে আর কিছু নেই। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

ন গুৱোৱধিকং তত্ত্বং ন গুরোরধিকং তপঃ।

তত্ত্বজ্ঞানাৎ পরং নাস্তি তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু শ্রী গুরুদেব তোমার মত তত্ত্ব জ্ঞানী এ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে আর কেউ নেই। আবার তোমাকে জানার তপস্যা ছাড়া আমাদের কিছুই নেই। তত্ত্বজ্ঞান অর্থাৎ পরমাত্মাকে জানার পথ প্রদর্শক এক মাত্র তুমিই। এ ছাড়া আর কিছুই নেই। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

মন্নাথঃ শ্রীজগন্নাথো মদ্গুরুঃ শ্রীজগদ্গুরুঃ।

মমাত্মা সর্ব্বভূতাত্মা তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থ : হে প্রভু শ্রী রাম তুমিই মোদের নাথ ও জগতের নাথ। তুমিই মোদের গুরু ও সমগ্র জগতের গুরু। তুমিই মোদের আত্মা ও সর্ব্ব জীবের আত্মা। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

গুরুরাদিনাদিশ্চ গুরুঃ পরমদৈবতম্।

গুরো পরতরং নাস্তি তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু শ্রীরাম তুমিই আদি ও অনাদি দেব গুরু এবং পরম দেবতা অর্থাৎ পরমেশ্বর। আবার তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

ধ্যানমূলং গুরোমূর্ত্তিং পূজামূলং গুরোঃ পদম্।

মন্ত্রমূলং গুরোরব্বাক্যং মোক্ষমূলং গুয়োঃ কৃপা ।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু শ্ৰীৱাম শ্রীগুরুর মূর্ত্তি ধ্যান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। শ্রীগুরু পাদপদ্ম অর্থাৎ শ্রীচরণ যুগল পূজা করাই আমাদের মূল। শ্রী গুরু বাক্যই মন্ত্রের মূল। তাই শ্রীগুরু বাক্য অক্ষরে অক্ষরে পালনই আমাদের মূল লক্ষ্য। আবার শ্রীগুরু কৃপা প্রাপ্ত হওয়া মোক্ষ লাভের মূল লক্ষ্য। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

শ্রীমৎ পরং ব্রহ্ম  গুরুং ভজামি।

শ্রীমৎ পরং ব্রহ্ম গুরং বদামি।

শ্রীমৎ পরং ব্রহ্ম গুরং স্মরামি।

শ্রীমৎ পরং ব্রহ্ম গুরং নমামি।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু শ্রীরাম তুমিই পরম সুন্দর ও পরম ব্রহ্ম। তাই হে গুরুদের আমরা তোমার ভজনা করি। তুমিই পরম সুন্দর ও পরম ব্রহ্ম বলে তোমার শ্ৰীনাম উচ্চারণ করি। তুমিই পরম সুন্দর ও পরম ব্রহ্ম বলে হে গুরুদের তোমায় স্মরণ করি। তুমিই পরম সুন্দর ও পরম ব্রহ্ম বলে হে গুরুদেব তোমায় ভক্তি পূর্ণ প্রণাম করি।

ব্রহ্মানন্দং পরমসুখদং কেবলং জ্ঞান মূর্ত্তিং

দ্বন্দ্বাতীতং গগনসদৃশং তত্ত্বমস্যাদ্দিলখ্যম্।

একং নিত্যং বিমলমচলং সর্ব্বদা সাক্ষিভূতম্

ভাবাতীতং ত্রিগুণ-রহিতং সদ্গুরুং তং নমামি।।

ভাবার্থঃ হে প্ৰভু শ্রীরাম তুমিই ব্রহ্মের আনন্দ স্বরূপ ও কেবল অপূর্ব জ্ঞান মূর্ত্তি তোমার ও  পরম সুখ প্রদান করে আমাদেরকে কৃতার্থ করেছ৷ তুমিই সকল দ্বন্দ্বের অতীত, তুমি আকাশের ন্যায় সদৃশ্য সর্ব্বত্র বিরাজমান এবং তুমি  তত্ত্বমসি প্রভৃতি মহাকাব্যের লখ্য, জ্ঞানী ও আমাদের সকলের পরিত্রাতা।  তুমিই একমাত্র নিত্য, নির্মল, অচল, সর্ব্ব সাক্ষী স্বরূপ ভাবাতীত ও তিন গুণের অতীত উত্তম মহাপুরুষ সদ্গুরু। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

নিত্যং শুদ্ধং নিরাভাসং নিরাকারং নিরঞ্জনম্।

নিত্যবোধ, চিদানন্দং গুরুং ব্রহ্ম নমাম্যহম্।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু শ্রী রাম তুমিই নিত্য, শ্বাশ্বত ও শুদ্ধ পবিত্র। তুমি নিরাভাস অর্থাৎ প্রকাশবিহীন, নিরাকার ও নিরঞ্জন অর্থাৎ  দাগবিহীন বিশুদ্ধ নিত্য জ্ঞানী, পরমানন্দময়ী ও পরম ব্রহ্ম গুরু। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই।

আনন্দমানন্দকরং  প্রসন্নং

জ্ঞানস্বরূপং নিজবোধযুক্তং।

যোগীন্দ্রমীড্যং ভবরোগবৈদ্যং

শ্রীমদ্ গুরুং নিতমহং ভজামি।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু শ্রী রাম তুমিই আনন্দ ও আনন্দ প্রদানকারী, প্রসন্ন, জ্ঞান স্বরূপ অর্থাৎ জ্ঞানশ্রেষ্ঠ, নিজবোধ শক্তি সম্পন্ন, যোগীশ্রেষ্ঠ, ও ভবরোগের চিকিৎসক। তাই হে গুরুদের – তুমি পরম সুন্দর। তাই আমরা তোমায়  নিত্য ভজনা করি।

ত্বমেব মাতা চ পিতা ত্বমেব,

ত্বমেব বন্ধুশ্চ সখা ত্বমেব।

ত্বমেব বিদ্যা দ্রবিণং ত্বমেব,

ত্বমের সর্ব্বং মম দেব দেব।।

ভাবার্থঃ হে প্রভু শ্রীরাম – তুমিই মোদের মাতা, পিতা, বন্ধু ও সখা। তুমিই মোদের প্রকৃত বিদ্যা বা পরম জ্ঞানী, তুমিই মোদের দ্রবিণং অর্থাৎ ধন ও সম্পদ (পরমেশ্বর) এবং তুমিই আমাদের সর্ব্বস্ব অর্থাৎ ভগবান ও পরমেশ্বর। তাই হে প্রভু শ্রীরাম তোমার শ্রীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই। সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *