ভগবৎ চিন্তা – ১/৭১ বেদবাণী।
” জীবগণ অনর্থক আশঙ্কার অধীনে যাইয়া চিন্তার তরঙ্গে কষ্ট পায়। সংসারে যতই অভাব ততই শান্তি পরিণামে উদয় হয়। যাহাতে সমস্ত ভার ভগবৎপদে ন্যস্ত করিতে পারা যায় তাহাই করিবেন। উপস্থিত সংসারের কর্ম্ম যথাসাধ্য শেষ করিতে চেষ্টা করিবেন। অন্য কোন চিন্তা না করিয়া যখন যেমন ভাবে পারিবেন ভগবৎ চিন্তা করিবেন। অহঙ্কার বশতঃ কর্তৃত্বাভিমান যত ত্যাগ করিয়া ভগবানের অভিমানে উঠিতে পারেন তাহাই করিবেন।” – ১/৭১ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাণীর গুঢ় অর্থ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-
এখানে জীবগণ বলতে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আমাদের উদ্দেশ্যে বলছেন অর্থাৎ আমরা অনর্থক এ সংসারে নানান আশঙ্কা বা দুশ্চিন্তা টেউয়ের মত আসে বলে কষ্ট পেয়ে থাকি। এ সংসারে কামনা বাসনার শেষ নেই। তাই যত বেশী অভাব থাকবে ততই পরিণামে শান্তির উদয় হয়। কেননা সংসারে আমাদের কল্পিত অভাব, কামনা বাসনায় ভরপুর ও অস্থায়ী। তাতে শান্তি বিঘ্নিত হয়। অভাবে পরলে ভগবানের নাম সর্ব্বদা মনে থাকে এবং ইহা পরিণামে শান্তি আনে। তাই ভগবানের অর্থাৎ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের শ্রীচরণ যুগলে আমাদের সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১০০% সমর্পণ করতে হবে এবং সকল ভার শ্রীগুরুর উপর রেখে আমাদের উপস্থিত কর্ম্ম সকল সুচারুরূপে পালন করে শেষ করার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের প্রীগুরু প্রদত্ত শ্ৰীনাম ব্যতীত আর অন্য কোন চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। সর্ব্বদা নিজেকে নামে নিয়োজিত রাখলে কোন অভাব থাকে না। তাই শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের আমাদের প্রতি পরম উপদেশ যেন আমরা যত বেশি কর্তৃত্বাভিমান ত্যাগ করতে পারব ততই আমরা ভগবানের অভিমানে উঠতে পারব অর্থাৎ ১০০% কর্ত্তৃত্ব ভাব শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের শ্রী চরণ যুগলে উৎসর্গ করতে হবে। তবেই আমরা ভগবানের সমীপে পৌঁছতে পারব, নচেৎ সংসারে হাবিডুবি খেতে হবে।
উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে আমাদের সকল কর্ত্তৃত্ব ও অহংকার শ্রী শ্রী ঠাকুরের শ্রী চরণ যুগলে ১০০% অর্থাৎ সম্পূর্ণ সমর্পণ করে শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশ বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করে এগিয়ে যেতে হবে যাতে আমরা ভগবানের অভিমানের অধীন পৌঁছতে পারি, তবেই আমাদের জীবনের সার্থকতা আসবে।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।
প্রাণের স্বরূপ জানা – ১/৭২ বেদবাণী।
” বাজে চিন্তা করিবেন না, সকল বেগই সহ্য করিবেন। লোভাদির অধীন হইয়া সংসারের বন্ধন ঘোচে না। জয় পরাজয়, লাভ লোকসান, সুখ দুঃখ, ভাল মন্দ, ন্যায় অন্যায় দিকে লক্ষ্য না রাখিয়া উপস্থিত যখন যে যে কর্ম্ম উপস্থিত হয় তাহা সম্পাদন করিয়া বাকি সময় নিজের কর্ত্তৃত্বের অভিমান যে ভুল ইহা জানিবার চেষ্টা করিবেন। শরীরের উপরই যখন কাহারো কোন কর্ত্তৃত্ব নাই তখন স্ত্রী পুত্র ভাই বন্ধুর উপর কর্তৃত্ব কি করিয়া হইতে পারে? এই সকল বিচার করিয়া সর্ব্বদা প্রাণ, যাহা শরীরের মধ্যে আছে, তাহার দিকে লক্ষ্য রাখিয়া নাম করিবেন। নাক দিয়া যে শ্বাস প্রশ্বাস যায় তাহার প্রতি লক্ষ্য করিবেন না। ধীর হইয়া বসিয়া যতটুকু সময় পারা যায় বাজে কথা না বলিয়া ঐ নাম মনে মনে উচ্চারণ করিতে করিতে প্রাণের স্বরূপ জানিতে পারিবেন।” – ১/৭২ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাণীর গুঢ় অর্থ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-
শ্রী শ্রী ঠাকুর বলছেন যে আমাদের বাজে চিন্তা করা উচিৎ নয়। সর্ব্বদা ধৈর্য্য সহকারে সকল বেগ সহ্য করা উচিৎ। এ সংসারে লোভ প্রলোভন দেখিয়ে বন্ধন ঘোচে না। কেননা এ সবই অস্থায়ী। মানুষের প্রত্যেক্যের জীবনে জয় পরাজয়, লাভ লোকসান, সুখ দুঃখ, ভাল মন্দ, ন্যায় অন্যায় ইত্যাদির সম্মুখীন হতে হয়। এ সবের দিকে লক্ষ্য না রেখে উপস্থিত যখন যে যে কর্ম্ম উপস্থিত হয় তা সম্পাদন করতে শ্রী শ্রী ঠাকুর নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেসঙ্গে বাকি সময় নিজের কর্ত্তৃত্বের অভিমান যে ভুল ইহা জানবার চেষ্টা করতে বলেছেন। শ্রী শ্রী ঠাকুর আরো জানাচ্ছেন যে শরীরের উপরই যখন কারও কোন কর্ত্তৃত্ব নেই তখন স্ত্রী পুত্র ভাই বন্ধুর উপর কর্তৃত্ব কখনও করা যায় না। তাই এ সকল বিচার করে কোন লাভ নেই। সর্ব্বদা প্রাণ যে শরীরের মধ্যে আছে, তাঁকে জানার জন্য তাঁর দিকে লক্ষ্য রেখে নাম করতে শ্রী শ্রী ঠাকুর আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আবার নাক দিয়া যে শ্বাস প্রশ্বাস যায় তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে শ্রী শ্রী ঠাকুর বারণ করেছেন। আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ বাজে কথায় লিপ্ত হয়ে পড়ি৷ তাই শ্রী শ্রী ঠাকুর বলছেন যে ধীর হয়ে বসে যতটুকু সময় পারা যায় বাজে কথা না বলে শ্রীগুরু প্রদত্ত শ্রী নাম মনে মনে অর্থাৎ প্রাণে প্রাণে নিষ্ঠা সহকারে উচ্চারণ করতে করতে প্রাণের স্বরূপ জানতে চেষ্টা করতে হবে। এখানে প্রাণের স্বরূপ বলতে সত্য বস্তু অর্থাৎ পরমাত্মাকে বোঝায়। এ পরমাত্মাকে জানতে হলে শ্রী গুরুর প্রতি দৃঢ় অন্ধ বিশ্বাস থাকতে হবে। ভক্তি, শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা সহকারে শ্রী গুরু প্রদত্ত শ্ৰীনাম সর্ব্বদা অহরহ অনবরত যে কোন অবস্থায় জপ করতে হবে। এভাবে এগিয়ে চলতে চলতে যখন এ জগতের কামনা বাসনা সম্পূর্ণ ত্যাগ হবে এবং এ জগতের ঋনও সম্পূর্ণ পরিশোধ হবে তখন এ শরীরের ভিতরে কুলকুন্ডলিনী শক্তির জাগরণ হবে এবং শ্রীগুরু কৃপায় প্রানের স্বরাপ অর্থাৎ পরমাত্মাকে জানা যাবে।
উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে শ্রী গুরু প্রদত্ত “শ্রী নাম” আমাদেরকে ভক্তি শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা এবং ধৈর্য্য সহকারে সর্ব্বদা অহরহঃ জপ করতে করতে প্রাণের স্থিতাবস্থা আনার প্রচেষ্টা করতে হবে। এভাবে এগিয়ে চলতে চলতে যখন এ জগতের কামনা বাসনা সম্পূর্ণ ত্যাগ হবে এবং এ জগতের ঋনও সম্পূর্ণ পরিশোধ হবে তখন শ্রীগুরু কৃপায় প্রানের স্বরাপ অর্থাৎ পরমাত্মাকে জানা যাবে।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।