প্রাক্তন দন্ড ভোগ – ১/৪০ বেদবাণী।
“প্রাক্তন দন্ড যথাযথানুসারে ভোগের অতিক্ৰম করা জীবের পক্ষে ক্ষমতা নাই।” – ১/৪০ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর মাত্র একটি বাক্যের মাধ্যমে কি বোঝাতে চাইছেন তা উপলব্ধিব উপর বিশ্লেষণ নিম্নে প্রদত হল:-
প্রাক্তন বলতে ভাগ্যকে বোঝায়। পূর্ব জন্মের কর্মফল স্বরূপ বর্তমানেও তা ভোগ করতে হয়। একেই প্রাক্তন দন্ড বলে। যা যা ভোগ নির্দ্দিষ্ট হয়ে আছে, এ জন্মেও যথাযথ ভাবে ভোগ নিতেই হবে। জীবের সাধ্য নেই যে ইহা অতিক্রম বা খন্ডন করতে পারে। স্বয়ং ভগবানও এ ভোগ খণ্ডন করতে পারেন না। কেবল ” নাম” করলে কিছুটা খন্ডন হতে পারে। শুধু তাই নয় – শ্রীগুরু প্রদত্ত ” শ্রীনামের” মাধ্যমে শ্রীগুরুর প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় অন্ধ বিশ্বাস করে শ্রদ্ধা ও ভক্তি সহকারে এগিয়ে গেলে যখন যাবতীয় কামনা বাসনা ত্যাগ হবে এবং এ জগতের সমগ্র ঋণ পরিশোধ হবে, তখনই প্রাক্তন দন্ড সম্পূর্ণ সমাপ্ত হবে।
উপসংহার:- শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের শ্রী চরণ যুগলে ১০০% অর্থাৎ সম্পূর্ণ সমর্পণ করে শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশ বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করে অর্থাৎ শ্রীগুরু প্রদত্ত “শ্রীনামের” মাধ্যমে শ্রীগুরুর প্রতি দৃঢ় অন্ধ বিশ্বাস রেখে শ্রদ্ধা ও ভক্তি সহকারে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি তবে শ্রীগুরু কৃপায় যখন যাবতীয় কামনা বাসনা ত্যাগ হবে এবং এ জগতের সমগ্র ঋণ পরিশোধ হবে, তখনই প্রাক্তন দন্ড সম্পূর্ণ সমাপ্ত করতে সক্ষম হব। তবেই মানব জন্মের সার্থকতা আসবে, নচেৎ সাংসারিক জড়া ব্যাধির যন্ত্রনা ভোগ করতে হবে।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।
পতিপ্রাণা ভক্তিরস – ১/৪১ বেদবাণী।
” সংসার মায়াময়, সকলই ভ্রান্তিমূলক, কর্তৃত্বাভিমান দ্বারা জড়িত। পতিপ্ৰাণা ভক্তিরসে সকল অভাবই মুক্ত হয়।” – ১/৪১ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর উপলব্ধির উপর বিশ্লেষণ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-
সংসার = সম+ সার; অর্থাৎ নিরপেক্ষ থেকে সর্ব্ব জীবে সমান ভাবে প্রেম ভাব ও ভালবাসা বজায় রাখা।। তাকেই সংসার বলে। সাধারণ অর্থে সংসার মায়াময়, অর্থাৎ স্বামী, স্ত্রী, ছেলে মেয়ে, মা, বাবা, নাতি, নাতনী ইত্যাদি নিয়ে সংসার। এর সঙ্গে জড়িত আছে কর্তৃত্ব, মান, অভিমান ইত্যাদি যাহা সবই ভ্রান্তিমূলক বা অস্থায়ী। প্রকৃতপক্ষে পতি প্রাণা ভাব রেখে শ্রদ্ধা ও ভক্তিরসের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ভাব নিয়ে সংসারের উপস্থিত কর্ম সকল নিষ্ঠা সহকারে সম্পন্ন করতে পারলে সকল অভাবই মুক্ত হয়৷ এখানে পতি বলতে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই আমাদের পতি অর্থাৎ ভগবান।। তাই শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে পারলেই এ সংসার জগৎ থেকে বাধন মুক্ত করে তাঁর নিত্য ধাম অর্থাৎ সত্যলোকে স্থান দেবেন।
উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই আমাদের পতি ও ভগবান। তাই শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে অর্থাৎ শ্রীগুরু প্রদত্ত “শ্রীনামের” মাধ্যমে শ্রীগুরুর প্রতি দৃঢ় অন্ধ বিশ্বাস রেখে শ্রদ্ধা ও ভক্তি সহকারে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি তবে শ্রীগুরু কৃপায় যখন যাবতীয় কামনা বাসনা ত্যাগ হবে এবং এ জগতের সমগ্র ঋণ পরিশোধ হবে তখন এ সংসার জগৎ থেকে বাধন মুক্ত করে তাঁর নিত্য ধাম অর্থাৎ সত্যলোকে স্থান পাব; তবে তাহা নির্ভর করছে পতিগত প্রাণ অর্থাৎ ১০০% ( সম্পূর্ণ) শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের শ্রীচরণ যুগলে সমর্পণ।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।
আপন ইষ্ট সেবায় লক্ষ্য – ১/৪৪ বেদবাণী।
“সংসার মায়াময়, ভ্রান্তিসূচক, সুখ দুঃখ প্রকাশক। সর্ব্বদা প্রারব্ধ গতির বিরোধী না হইয়া তাহাদের সেবা পরিচর্য্যার বাধা না দিয়া, কেবল ভগবানের সেবা নিষ্ঠায় যত্নবান হইতে চেষ্টা করিবেন। বাসনাদি যাহা রজগুণের তরঙ্গ তাহারা সকলই উদয় অস্ত হইবে। তাহাদের তাড়না জালের প্রতি লক্ষ্য না রাখিয়া আপন ইষ্ট সেবায় লক্ষ্য রাখিয়া যাইবেন। অচিরেই ভগবান এই মায়াক্ষেত্রের বিকার হইতে উদ্ধার করিয়া লইবেন সন্দেহ নাই । সাধ্যমতই ভগবানের সেবাচর্য্যা করিয়া যাইবেন। মনের চঞ্চলতার দিকে লক্ষ্য না রাখিয়া কেবল সেবার আশ্ৰয়ে থাকিবেন। মনের ধর্ম্মই হইয়াছে চঞ্চল। সর্ব্বদা সেবাকার্য্যই ব্রজের পরিকর জানিবেন।” – ১/৪৪ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাণীর গুঢ় অর্থ যা উপলব্ধি করেছি তা নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-
সংসার = সম+ সার; অর্থাৎ নিরপেক্ষ থেকে সর্ব্ব জীবে সমান ভাবে প্রেম ভাব ও ভালবাসা বজায় রাখা।। তাকেই সংসার বলে। সাধারণ অর্থে সংসার মায়াময়, অর্থাৎ স্বামী, স্ত্রী, ছেলে মেয়ে, মা, বাবা, নাতি, নাতনী ইত্যাদি নিয়ে সংসার। এর সঙ্গে জড়িত আছে কর্তৃত্ব, মান, অভিমান ইত্যাদি যাহা সবই সুখ দুঃখে পরিপূর্ণ এবং ভ্রান্তিমূলক বা অস্থায়ী। সর্ব্বদা প্রারব্ধ বলতে বোঝায় – প্রারব্ধ = প্রা+র+ ৰূ। প্ৰা বলতে প্রাক্তন , র বলতে রত ও ব্ধ বলতে লব্ধ ভোগ নির্ধারিত বোঝায় অর্থাৎ প্রাক্তন জনিত ভোগ নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভোগ একত্রিত প্রাপ্ত ভোগ নির্ধারিত। তাই প্রারব্ধ জনিত ভোগের গতির বিরোধিতা না করে কেবল ভগবানের সেবা নিষ্ঠায় যত্নবান হয়ে নিজেকে ১০০% নিয়োজিত রাখতে হবে এবং তাতে নির্দ্দিষ্ট সময়ে প্রারব্ধ ভোগের বাধা সম্পূর্ণ অতিক্রম করতে সক্ষম হতে পারা যায়। সত্ত্ব, রজ ও তম গুণের বিভিন্নতার জন্য মানুষের আচার আচরণ পরিলখ্যিত হয়। ভগবানের সেবায় সর্ব্বদা নিষ্ঠাবান হলে বাসনাদি ইত্যাদির তরঙ্গ অচিরেই উদয় অস্তু হবে। তাই সংসারের বাসনাদি জালে আবদ্ধ না হয়ে আপন ইষ্ট সেবায় যত্নবান হতে শ্রী শ্রী ঠাকুর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থাৎ এখানে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই আমাদের ইষ্ট দেবতা। ইহাই আমাদের পরম লখ্য। এভাবে নিষ্ঠা সহকারে শ্রী গুরুর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে পারলে ভগবান শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আমাদের সংসার মায়ার চক্র থেকে উদ্ধার করবেনই। তাই শ্রী শ্রী ঠাকুর বলছেন যে সাধ্যমত ভগবানের সেবা কার্য্য করা উচিৎ। মনের চঞ্চলতার দিকে লখ্য না রেখে কেবল ভগবানের সেবার আশ্রয়ে থাকাই পরম ধর্ম্ম, কেননা মনের ধর্ম্ম হল চঞ্চলতা অর্থাৎ পাপ, তাপ, নানান জল্পনা কল্পনা ইত্যাদি অধর্মের উৎপাত বৃদ্ধি করে এবং সত্যকে জানতে পারে না । তাই সর্ব্বদা ভগবানের সেবা কার্য্য করতে পারলে ব্রজ পরিকর অর্থাৎ শ্রী কৃষ্ণের সহচর বৃন্দকে বোঝায়। এ অবস্থাকে ব্রজ বাস বলে।
উপসংহারঃ – শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের তাঁর আশ্রিত জনের প্রতি অভয় বাণী এই যে সংসার তাড়না জালের প্রতি লক্ষ্য না রেখে আপন ইষ্ট সেবায় লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। অচিরেই ভগবান শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর এ মায়াক্ষেত্রের বিকার থেকে উদ্ধার করে নিবেনই – এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।