আলস্য করিয়া হেলা করিতে নাই – ১/৬৭ বেদবাণী।
” আলস্য করিয়া হেলা করিতে নাই।” – ১/৬৭ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর একটি মাত্র বাক্যের মমার্থ নিম্নে বর্ণিত হল:-
আমরা শৈশব কালে বাল্য শিক্ষা পাঠে অনেক উপদেশ শ্লোকের মাধ্যমে পেয়েছি। তার মধ্যে একটি শ্লোক অন্যতম৷ যথা – আলস্য দোষের আকর। এখানে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আমাদেরকে বোঝাতে চাচ্ছেন যে উপস্থিত কর্ম্ম যা করনীয় তা আলস্য করে হেলা করতে নেই। কেননা আজ যা করণীয় তা হেলা করে জমিয়ে রাখলে পরের দিন নূতন কর্ম্মের সঙ্গে চাপে পড়তে হবে। ফলে কোন কর্ম্মই সমাধান করা যায় না। কাজে অবহেলা করা পাপ৷ যেমন – শ্রী শ্রী ঠাকুরের নির্দেশে আমাদের সর্ব্বদা নিত্য শ্রীগুরু প্রদত্ত শ্রী নাম জপ করাই মূল লক্ষ্য। তাতে হেলা করলে এ সংসার চক্রে হাবিডুবি খেতে হবে।
উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আমাদের উপস্থিত কর্ম যথাসাধ্য নির্ব্বাহ করতে হবে এবং সে সঙ্গে সর্ব্বদা নিত্য শ্রীগুরু প্রদত্ত শ্রী নাম জপ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাতে হেলা করলে এ সংসার চক্রে হাবিডুবি খেতে হবে। তাই সাধু সাবধান।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।
প্রাণের চিন্তাই মনকে সুস্থ করে – ১/৬৮ বেদবাণী।
“সংসারে নিত্যযজ্ঞ করাই প্রয়োজন। শ্বাস প্রশ্বাস না টানা না ফেলার অবস্থায় হাপ না হয় কষ্ট না হওয়া পর্যন্ত্য যতটুকু পর্য্যন্ত রাখা যায় ততটুকু সময় রাখিয়া পুনঃ পুনঃ মাথা হইতে মূলগুহ্য পর্য্যন্ত মেরুদন্ডের মধ্যে বিদ্যুতের লটার মতন চিন্তা করিয়া নিত্য কার্য্য করিতে অভ্যাস করিবেন। এতৎ চিন্তাই মনকে সুস্থ করিয়া নিবেন।” – ১/৬৮ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাণীর গুঢ় অর্থ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-
সংসারে নিত্যযজ্ঞ করা বলতে বোঝায় – নিঃস্বার্থ সেবা ও প্রাণের ভালবাসা দিয়ে সংসার নির্ব্বাহ করা অর্থাৎ মাতাপিতা, স্বামী, স্ত্রী, ছেলে মেয়ে ইত্যাদি সকলের ভরন পোষণ সুচারুরূপে নির্ব্বাহ করা বিশেষভাবে করণীয়। তাছাড়া পুত্র প্রাপ্ত বয়স্ক হলে মাতাপিতার সেবা শুশ্রষা করা পুত্রের প্রধান কর্ত্তব্য। সংসার = সম+ সার; অর্থাৎ নিরপেক্ষ থেকে সর্ব্ব জীবে সমান ভাবে প্রেম ভাব ও ভালবাসা বজায় রাখা। আর সংসারে অনাসক্ত হয়ে নিঃস্বার্থভাবে কর্তৃত্ত্ববিহীন হয়ে ভগবানের উপর ১০০% সমর্পণ করে নিষ্ঠা সহকারে সংসার সুচারুরূপে প্রতিপালন যিনি করেন তাকেই সংসার বলে। এ নিত্য যজ্ঞ করাই সংসারের পরম ধর্ম্ম। শ্বাস প্রশ্বাস না টানা না ফেলার অবস্থায় হাপ না হয় কষ্ট না হওয়া পর্য্যন্ত যতটুকু পর্য্যন্ত রাখা যায় ততটুকু সময় রাখিয়া পুনঃ পুনঃ মাথা থেকে মূলগুহ্য পর্য্যন্ত মেরুদন্ডের মধ্যে বিদ্যুতের লটার মতন চিন্তা করে নিত্য কার্য্য করতে অভ্যাস করতে শ্রী শ্রী ঠাকুরের আমাদের প্রতি নির্দেশ দেওয়ার অর্থ হল – সত্য অর্থাৎ পরমাত্মাকে উপলব্ধির করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। যে “শ্রী নাম” শ্রী গুরু আমাদেরকে প্রদান করেছেন ঐ “শ্রী নাম” শ্রী গুরুর প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় অন্ধ বিশ্বাস করে ভক্তি শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা এবং ধৈর্য্য সহকারে সর্ব্বদা অহরহঃ জপ উপরোক্ত শ্বাস প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার অবলম্বনে অনুশীলন করতে করতে মস্তক থেকে গুহ্যমূল পর্য্যন্ত মেরুদন্ডের মধ্যে সমগ্র লোম কূপের মধ্যে অফুরন্ত আনন্দদায়ক বিদ্যুতের লটা বা তরঙ্গের স্রোতের মত প্রাণের ক্রিয়ার অনুধাবন হবে এবং পরে প্রাণের স্থিতাবস্থা আসবে। এ অবস্থায় সত্য অর্থাৎ পরমাত্মার উপলব্ধি হবে। নিত্য এ চিন্তার অভ্যাসে মনকে সুস্থ করে তোলে। ইহাই শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের আমাদের প্রতি এ পরম উপদেশ।
উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে শ্রী গুরু প্রদত্ত “শ্রী নাম” আমাদেরকে ভক্তি শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা এবং ধৈর্য্য সহকারে সর্ব্বদা অহরহঃ উপরোক্ত শ্বাস প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার অবলম্বনে জপ করতে করতে প্রাণের স্থিতাবস্থা আনার প্রচেষ্টা করতে হবে। এ ভাবে এগোলে পরে সত্য অর্থাৎ পরমাত্মার উপলব্ধি হবে। নিত্য এ চিন্তার অভ্যাসে মনকে সুস্থ করে তুলতে হবে; নচেৎ সংসার চক্রে আমাদের হাবিডুবি খেতে হবে।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।