Vedvani 69 & 70 (P-I)

প্রারব্ধ ভোগ কাটানো – ১/৬৯ বেদবাণী।

” ভগবানের উপর সকল ভার দিয়া কার্য্য করিয়া যাইবেন, প্রারব্ধ ভোগ কেটে যাবে।” ১/৬৯ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাণীর গুঢ় অর্থ  নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-

এখানে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আমাদের সকলের উদ্দেশ্যে বলছেন যে আমরা যেন ভগবানের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করি; অর্থাৎ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই আমাদের ভগবান৷ তাই ভগবানের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখাই আমাদের  একমাত্র সাধনা। ভগবানের অর্থাৎ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের  শ্রীচরণ যুগলে আমাদের সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১০০% সমর্পণ করতে হবে এবং সকল ভার শ্রীগুরুর উপর রেখে আমাদের উপস্থিত কর্ম্ম সকল সুচারুরূপে পালন করতে হবে। প্রারব্ধ  (প্রারব্ধ = প্রা+র+ ৰূ। প্ৰা বলতে প্রাক্তন , র বলতে রত ও  ব্ধ বলতে লব্ধ ভোগ নির্ধারিত বোঝায় অর্থাৎ প্রাক্তন জনিত ভোগ নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভোগ একত্রিত প্রাপ্ত ভোগ নির্ধারিত।) ভোগ ধৈর্য্য সহকারে সহ্য করে শ্রীনামের অনুশীলনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ মুক্ত করার চেষ্টা  করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

উপসংহার:- সর্ব্বদা শ্রী গুরুর প্রতি  দৃঢ় প্রত্যয়, অন্ধ বিশ্বাস এবং অনন্য ভাব চিন্তা ও ভক্তি নিয়ে শ্রীগুরুর মূর্ত্তি এবং শ্রীগুরুর শ্রীচরণ যুগলে ধ্যানে নিমগ্ন থাকতে হবে। এভাবে সর্ববদা ভগবানের সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণ উৎসর্গ করতে পারলে শ্রী গুরু কৃপা প্রাপ্ত হবে এবং  সকল প্রারব্ধ ভোগ কেটে যাবে।

সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

সংসার মমতাজালে বদ্ধ – ১/৭০ বেদবাণী।

” সংসার মমতাজালে বদ্ধ থাকায় জীবগণ কার্য্যকারণ স্মরণ করে।” – ১/৭০ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের একটি মাত্র বাক্যের বাণীর গুঢ় অর্থ  নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-

সংসার = সম+ সার; অর্থাৎ নিরপেক্ষ থেকে সর্ব্ব জীবে সমান ভাবে প্রেম ভাব ও ভালবাসা বজায় রাখা। আর সংসারে অনাসক্ত হয়ে নিঃস্বার্থভাবে কর্তৃত্ত্ববিহীন হয়ে ভগবানের উপর ১০০% সমর্পণ করে নিষ্ঠা সহকারে সংসার সুচারুরূপে প্রতিপালন যিনি  করেন তাকেই সংসার বলে। ইহাই শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের আমাদের সংসারের প্রতি মূল উপদেশ। কিন্তু আমরা সংসারে মমতাজালে আবদ্ধ হওয়াতে অর্থাৎ মাতা পিতা, স্বামী স্ত্রী,    ছেলে মেয়ে, ইত্যাদি নিয়ে মায়া মমতার জাল তৈরী করে যে কোন কার্য্য করে তার ফলের প্রাপ্তি স্মরণ করি – এটাই আমাদের ভ্রান্তি। জীবগণ কামনা বাসনা করে যতটুকু প্রাপ্য , ততটুকুই পেয়ে থাকেন, এর বেশী নয় ও কমও নয় অর্থাৎ এ পৃথিবীতে প্রত্যেকের ভাগ্য নির্ধারিত। এভাবে মানুষ সংসারের মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে অস্থায়ী বস্তুতে আকর্ষিত হন ও সত্য বস্তু অর্থাৎ ভগবানকে ভুলে যান।

উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশের  একটি মাত্র বাক্য থেকে শিক্ষনীয় এই যে আমাদের কার্যকারণের জন্য স্মরণ করা বৃথা। তাতে সংসার মমতাজালে বদ্ধ হয়ে প্রারব্ধ ভোগ গ্রহন করতে হবে এবং বারংবার জন্ম মৃত্যুর যন্ত্রনা ভোগ করতে হবে, মুক্তি হবে না। তাই ভগবানের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখাই আমাদের  একমাত্র সাধনা। ভগবানের অর্থাৎ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের  শ্রীচরণ যুগলে আমাদের সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১০০% সমর্পণ করতে হবে এবং সকল ভার শ্রীগুরুর উপর রেখে আমাদের উপস্থিত কর্ম্ম সকল সুচারুরূপে পালন করতে হবে, তবেই শ্রীগুরু কৃপায় মুক্তি লাভ সম্ভব হবে।

সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *