Vedvani 49 & 50 (P-I)

চিত্ত বিনোদ উদয় – ১/৪৯ বেদবাণী।

” প্রারব্ধ সংসার না হওয়া পর্যন্ত চিত্তবিনোদ উদয় হয় না।  পূর্ব্বাপর মহাশক্তির জীবনীতে সকলই প্রকাশ আছে, চিন্তা নাই।” – ১/৪৯ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাণীর গুঢ় অর্থ যা উপলব্ধি করেছি তা নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-

এখানে প্রারব্ধ = প্রা+র+ ৰূ। প্ৰা বলতে প্রাক্তন , র বলতে রত ও  ব্ধ বলতে লব্ধ ভোগ নির্ধারিত বোঝায় অর্থাৎ প্রাক্তন জনিত ভোগ নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভোগ একত্রিত প্রাপ্ত ভোগ নির্ধারিত। প্রারব্ধ সংসার না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ প্রারব্ধ ভোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চিত্ত বিনোদ অর্থাৎ চিত্ত মনোরঞ্জন হয় না। এ হৃদয়ের আনন্দ সাধারণ নয়। ইহা সত্য বা পরমাত্মার উপলব্ধিকে বোঝায় যা শ্রীগুরু প্রদত্ত “শ্রীনাম” সর্ব্বদা অহরহ অনবরত ভক্তি শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা সহকারে জপ করতে করতে যখন এ জগতের সকল কামনা বামনা ত্যাগ হবে এবং জগতের সকল ঋণ শোধ হবে তখন জীবাত্মা পরমাত্মার সঙ্গে লীন হয়ে যাবে অর্থাৎ তখন জন্ম মৃত্যু রহিত হবে এবং হৃদয়ে নিত্য আনন্দ ও পরমানন্দের উদয় হবে। পূর্ব্বাপর মহাশক্তির জীবনী বলতে যে মহাশক্তি পূর্বে অর্থাৎ আগাগোড়া ছিল ও বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও চির বিরাজমান থাকবে। তিনি হচ্ছেন সেই আদি মহাশক্তি দেবী মা দূর্গা যিনি সৃষ্টি আদি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডকে ধরে রেখেছেন। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর তাই বলছেন যে সেই মহাশক্তির জীবনীতে সকলই প্রকাশিত আছে, কোন চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

উপসংহারঃ- শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপরোক্ত উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই আদি  মহাশক্তি দেবী মা দূর্গা যিনি সৃষ্টি আদি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডকে ধরে রেখেছেন। আমরা তাঁর বিরাটত্বকে এখনও কিছুই বুঝলাম না। তাই শ্রী শ্রী ঠাকুরের অভয় বাণী – প্রারব্ধ ভোগ শেষ হয়ে গেলে চিত্ত বিনোদ হবে অর্থাৎ হৃদয়ে পরমানন্দের উত্তয় হবে। কেননা আদি মহাশক্তি দেবী মা দূর্গা আমাদের বিমাতার কোল থেকে তাঁর কোলেই ফিরিয়ে নেবেন। কোন চিন্তা নেই। তাই আসুন আমরা সবাই শ্রী শ্রী ঠাকুরের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করি এবং তাতেই আমাদের মানব জীবনের সার্থকতা আসবে।

 সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

সহিষ্ণুতার দ্বারা প্রারব্ধমুক্ত – ১/৫০ বেদবাণী।

“প্রাক্তন সূত্রে যে সকল ভাব মনাদি ইচ্ছার বশতা স্বীকার হয় তাহাই ভ্রান্তি, সকলই মনের জল্পনা কল্পনা মাত্র। সকল অবস্থায় অবিচলে সহিষ্ণুতার দ্বারা ভোগ করিয়া যাইতে যাইতে প্রারব্ধ মুক্ত হইয়া নির্ম্মল চৈতন্য লাভ করিয়া থাকে। পুনরায় আর ভ্রান্তিমুগ্ধ গারদ দন্ডে বন্ধন হয় না।” – ১/৫০ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত শ্ৰী শ্ৰী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর মর্মার্থ উপলব্ধির উপর বিশ্লেষণ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-

প্রাক্তন অর্থাৎ পূর্ব জন্মজনিত ভাগ্য নির্ধারণ যা আছে তা মানুষকে বর্তমান জন্মেও ভোগ করতে হয়। তাই সত্ব, রজ ও তম এ তিন গুনের বিভিন্নতার জন্য মনের মধ্যে নানা কামনা বাসনা ইত্যাদির ভাব সকল ইচ্ছার বশীভূত হয়, তা সবই ভ্রান্তি এবং এ সবই কেবল মনের জল্পনা কল্পনা মাত্র।  এ অবস্থায় সকল পরিস্থিতে সহিষ্ণুতার দ্বারা অবিচল থেকে ধৈর্য্য সহকারে ভোগ করতে করতে প্রারব্ধ অর্থাৎ এখানে প্রারব্ধ = প্রা+র+ ৰূ। প্ৰা বলতে প্রাক্তন , র বলতে রত ও  ব্ধ বলতে লব্ধ ভোগ নির্ধারিত বোঝায় অর্থাৎ প্রাক্তন জনিত ভোগ নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভোগ একত্রিত প্রাপ্ত ভোগ নির্ধারিত।  সে প্রারব্ধ সংসার  না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ প্রারব্ধ ভোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্মল চৈতন্য অর্থাৎ জ্ঞান অর্জন হয় না। তাই এ ভাবে সহনশীলতার মাধ্যমে ভোগ করতে করতে একদিন প্রারব্ধ ভোগ মুক্ত হয়ে নির্মল চৈতন্যের উদয় হবে। তখন পুনরায় আর অস্থায়ী ভ্রান্তি মুগ্ধ গারদ দন্ডে বন্ধনে কোন স্পর্শ করতে পারবে না। কেননা পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করলে এ মব অস্থায়ী বস্তু বা সাময়িক আনন্দ জ্ঞানী ব্যক্তিকে স্পর্শ করতে পারে না।

উপসংহার:-  রাম ঠাকুরের  শ্রী চরণ যুগলে ১০০% অর্থাৎ সম্পূর্ণ সমর্পণ করে শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশ বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করে অর্থাৎ  শ্রীগুরু প্রদত্ত “শ্রীনামের” মাধ্যমে শ্রীগুরুর প্রতি দৃঢ়  অন্ধ বিশ্বাস রেখে শ্রদ্ধা ও ভক্তি এবং ধৈর্য্য সহকারে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি তবে শ্রীগুরু কৃপায় যখন যাবতীয় কামনা বাসনা ত্যাগ হবে এবং এ জগতের সমগ্র ঋণ পরিশোধ হবে, তখনই প্রারব্ধ ও প্রাক্তন দন্ড সম্পূর্ণ সমাপ্ত করতে সক্ষম হব এবং তখনই পূর্ণ চৈতন্যের জ্ঞান অর্জন হবে,  নচেৎ সাংসারিক জড়া ব্যাধির যন্ত্রনা ভোগ করতে হবে।

সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *