Vedvani – 47 & 48(P-I)

ভগবান ত্ৰিজগতে সর্ব্বদাই জাগরণ থাকেন – ১/৪৭ বেদবাণী।

” ভগবান ত্রিজগতে  সর্ব্বদাই জাগরণ থাকেন, তাহার কোন অঙ্গই ত্রিজগৎ ছাড়িয়া থাকে না। কতৃত্বাভিমান প্রকৃতির গুণজাত হইয়া অহংকার দ্বারা তৎপদ লখ্য করিতে পারে না বলিয়াই নানা আশু সুখদায়ক কর্ম্মফল অন্বেষণ করিয়া , হিতাহিত হারাইয়া কর্ত্তব্য ত্রুটিতে পড়ে৷ তজ্জন্যই জগতের চর অচর পদে পড়িয়া যায়। অতএব সর্ব্বদা তৎলক্ষ্য রাখিতে চেষ্টা করিবেন৷” – ১/৪৭ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর তাৎপর্য্য উপলব্ধির উপর বিশ্লেষণ নিম্নে প্রদত্ত হল:-

ভগবান কেবল ত্রিজগৎ  (স্বর্গ, মর্ত ও পাতাল) নয়, সমগ্ৰ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে বিরাজমান। আমাদের দিব্য চক্ষু নেই বলে আমরা কিছুই বুঝতে পারিনা৷ তার মূল কারণ হল – প্রকৃতির গুণ অর্থাৎ সত্ব, রজ ও তম গুণ জনিত  কতৃত্ত্বাভিমান, অহংকারাদি ইত্যাদির প্রভাবে মানুষ অর্থাৎ আমরা প্রায় সবাই তৎপদ অর্থাৎ ভগবানের বিশালত্যকে জানতে পারিনা। তাই নানা সাময়িক সুখদায়ক বস্তু লাভের অনুসন্ধান করে কর্ম্মফল প্রাপ্তির কামনা বাসনা পূর্ণের জন্য দিশাহারা হয়ে কর্ত্তব্য ত্রুটির জালে আটকে পড়ি এবং জগতের চর অচর পদের বিপাকে পড়ে আমাদের হাবিডুবি খেতে হয়। শ্রী শ্রী ঠাকুর তাই বলেছেন আমরা যেন সর্ব্বদা সত্য অর্থাৎ পরমাত্মাকে জানার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের এ পত্রের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এ যে ভগবান বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সর্ব্বত্র বিরাজমান এবং জাগরিত আছেন। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই আমাদের ভগবান এবং শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর বলেছেন, “আপনারা কে কি করতাছেন, আমি সবই আয়নার মত সব দেখিতে পাই।” তাই শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশ আমরা যেন সবাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করি যাতে আমরা সত্যলোকের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি, নচেৎ বারংবার জন্ম মৃত্যুর লাঞ্ছনা ভোগ করতে হবে।

সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

পতিব্রত ধর্ম্ম – ১/৪৮ বেদবাণী।

“সংবর্দ্ধন কার্য্য কর্তৃত্বাভিমানীতে সাধ্যসাধনে প্রাপ্ত হয় না বলিয়াই পতিব্রতা ধর্ম্ম জগতে বহু নায়ক নায়িকা প্রবণ করিয়া কীর্ত্তিপথ স্থাপন করিয়া রাখিয়াছেন। অতএব পতিব্রত ধর্ম্ম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম্ম সহায়ে কৃতকার্য্য সম্পাদন হইতে পারে না। মনের সুখ বোধ যাহা হয় তাহা কেবল প্রকৃতির বিকারমাত্র, ক্ষণস্থায়ী।” – ১/৪৮ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত শ্ৰী শ্ৰী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর মর্মার্থ উপলব্ধির উপর বিশ্লেষণ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-

সংবর্দ্ধন অর্থাৎ সম্মান বৃদ্ধির জন্য কার্য্য কর্তৃত্বাভিমানের সহিত কৱিলে সাধ্যসাধনে বাধা প্রাপ্ত হয়। যে কোন কার্য্য নিষ্ঠাভাবে ও নিঃস্বার্থভাবে না করলে তাহা ফলপ্রসু হয় না। ভগবানের প্রতি শ্রদ্ধা,  ভক্তি, দৃঢ় অন্ধ বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও নিঃস্বার্থভাব থাকলে পতিব্রতা ধর্ম্মের জাগরণ হয়।জগতের বহ নায়ক নায়িকার যখন সিনেমা পর্দায় শুদ্ধ চরিত্র ও নিঃস্বার্থ প্রেম ভালবাসা ভাবের সঠিক উপস্থাপনা হয় তখন সিনেমার পরিপূর্ণতা ও জনপ্রিয়তা লাভ করে।   এখানে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশের মর্মার্থ এই যে ভগবানের শ্রীচরণ যুগলে ভক্তি শ্রদ্ধা, অকৃত্তিম প্রেম ভালবাসা, দৃঢ় প্রত্যয় অন্ধ বিশ্বাস  ও নিষ্ঠা সহকারে যদি আমরা সম্পূর্ণ সমর্পণ করতে পারি তবেই পতিব্রত ধর্ম্মের জাগরণ করতে পারব। পতিব্রত ধর্ম্ম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম্মের সাহায্যে কোন কাজেই সফলতা অর্জন করা যায় না। কোন কোন কর্ম্মে মনের সুখ বোধ  যা হয় তা কেবল বিকার মাত্র ও ক্ষনস্থায়ী। মনেই পাপ’ তাপ, জল্পনা, কল্পনা ইত্যাদি হয়। ইহা কখনও সত্যের সহচর হতে পারে না।

উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে ভগবানের শ্রীচরণ যুগলে আমাদের সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১০০% সমর্পণ করতে হবে। এর জন্য আমাদের শ্রীগুরু প্রদত্ত শ্ৰীনাম ভক্তি শ্রদ্ধা, অকৃত্তিম প্রেম ভালবাসা, দৃঢ় প্রত্যয় অন্ধ বিশ্বাস  ও নিষ্ঠা সহকারে সর্ব্বদা জপ করতে করতে পতিব্রত ধর্ম্মের শক্তি অর্জন করতে হবে। ইহাই শ্রী শ্রী ঠাকুরের আমাদের প্রতি অত্যন্ত মূল্যবান উপদেশ।

সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *