Vedvani 53 & 54 (P-I)

আসক্তিই বন্ধন করে। – ১/৫৩ ।বেদবাণী।

” বিবাহ করিলে সংসার বন্ধন হয় না, আসক্তিই বন্ধন করে। ভাগ্যং ফলতি সর্ব্বত্রং, এই শ্রুতি বাক্য। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিবাদি সকলেই বিবাহ সংসার পালন করিয়াছেন।” – ১/৫৩ বেদবাণী। শ্রী শ্রী  রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাণীর গুঢ় অর্থ  নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-

বিবাহ করলে সংসার বন্ধন হয় না। সংসারে আসক্তিই বন্ধনের কারণ অর্থাৎ কামনা বাসনা পূরণের জন্য সংসারে মানুষ আবদ্ধ হয় এবং ইহাই আসক্তি অর্থাৎ অস্থায়ী বস্তুর পাবার লালসা বাড়ে। সংসার = সম+ সার; অর্থাৎ নিরপেক্ষ থেকে সর্ব্ব জীবে সমান ভাবে প্রেম ভাব ও ভালবাসা বজায় রাখা। তাকেই প্রকৃত সংসার বলে। ভাগ্যে যা নির্ধারিত হয়ে আছে তাহাই প্রাপ্য; এর কমও নয়, বেশীও  নয়। প্রত্যেক মানুষ নিজ নিজ ভাগ্য নিয়ে এ পৃথিবীতে জন্ম নেন এবং তদনুযায়ী ফল লাভ করেন অর্থাৎ পূর্ব নির্ধারিত। এ সত্য জেনে সংসারে নির্লিপ্ত থেকে অনাসক্ত হয়ে স্ত্রী, পুত্র, মেয়ে, নাতি, নাতনি ইত্যাদির ভরণ পোষণ করতে হবে। তাতে সংসারে আসক্তি জন্মে না।  ব্রহ্মা, বিষ্ণু শিবাদি সকলেই বিবাহ করে সংসার পালন করেছেন: কিন্তু তাঁরা কেহই সংসার বন্ধনে আবদ্ধ হন নি। তাঁরা সকলেই সংসারে নির্লিপ্ত ও অনাসক্ত ছিলেন।

উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে সংসারে নির্লিপ্ত থেকে অনাসক্তভাবে কর্ম্ম করাই আমাদের একমাত্র সাধনা। ইহাতে সংসারে বন্ধন হয় না, নচেৎ আসক্তিতে সংসারে হাবিডুবি খেতে খেতে হবে। শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশ পালন করাই আমাদের শিরোধার্য্য।

সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

পিতার ইচ্ছা পূর্ণ করাই সন্তানের ধর্ম্ম – ১/৫৪ বেদবাণী।

“পিতামাতার তৃপ্তির জন্যই লোক সন্তান প্রয়াসী হয় এবং পিতার ইচ্ছা পূর্ণ করাই সন্তানের ধর্ম্ম।” – ১/৫৪ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত শ্ৰী শ্ৰী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর মর্মার্থ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-

সৃষ্টি কর্তা মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। পিতামাতার তৃপ্তির জন্যই লোক সন্তান প্রয়াসী হয়, অর্থাৎ পিতামাতা হল কেবল উপলক্ষ বা মাধ্যম। প্রকৃতপক্ষে সৃষ্টি কর্তারই (ভগবান) এ লীলা। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া সন্তান পৃথিবীর আলো দেখতে পায় না। আমরা প্রত্যেকে যখন মাতৃগর্ভে উত্তানশায়ী ছিলাম, তখন কোন কিছুর প্রয়োজন ছিল না। কেননা ঐ অবস্থায় আমরা সত্য অর্থাৎ ভগবানের কোলে ছিলাম। ভগবানের কাছে অঙ্গীকার অনুযায়ী মাতৃগর্ভ থেকে শিশু সন্তান এ পৃথিবীতে জন্ম নেয়। শিশু সন্তান জন্ম নেওয়ার সাথে সাথে ভগবানের নাম ভুলে যায়। ঐ নাম গুরুজী এসে নির্দ্দিষ্ট সময়ে প্রদান করেন৷ নাম প্রাপ্ত সন্তানের ধর্ম্ম হল সর্ব্বদা নাম করা। পিতা বা মাতার ইচ্ছাও তাই – যেন সন্তান যেন প্রকৃত মানুষ হয়। প্রথমতঃ ভগবানের নাম করাই পরম ধর্ম্ম । দ্বিতীয়তঃ সত্যকে ধরে রাখা পরম ধর্ম্ম। তৃতীয়তঃ ধৈর্য্যই পরম ধর্ম্ম। চতুর্থতঃ সহনশীলতাই পরম ধর্ম্ম।

শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের নির্দেশ অনুযায়ী উপরোক্ত চারটি পথ অত্যন্ত মূল্যবান। সর্ব্বদা মাতা পিতার ইচ্ছা থাকে যেন সন্তান প্রকৃত মানুষ হয় ও কর্তব্যপরায়ণ হয় অর্থাৎ বড় হয়ে পিতামাতার সেবা করাই পরম ধর্ম্ম এবং সেই সঙ্গে উপরোক্ত শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশাবলী অক্ষরে অক্ষরে  পালন করাই শিরোধার্য্য।

উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের প্রত্যেক সন্তানের শিক্ষনীয় এই যে পিতা মাতা আমাদের প্রত্যক্ষ দেবতা। কেননা তাদের  কল্যানে আমরা এ পৃথিবীর আলো দেখতে পেয়েছি। তাই পিতামাতার সেবা করাই আমাদের প্রধান কর্ত্তব্য এবং পিতার ইচ্ছা পূর্ণ করাই আমাদের পরম ধর্ম্ম। সেই সঙ্গে শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশ পালন করাই আমাদের শিরোধার্য্য।

সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *