Vedvani 55 & 56 (P-I)

অকর্ত্তার কোনই অভাব থাকে না। – ১/৫৫ বেদবাণী।

“কর্ত্তা কর্ম্ম হইতে লাভ লোকসান দ্বারা ব্যতিব্যস্ত হয়, তাক অকর্ত্তার কোনই অভাব থাকে না।” – ১/৫৫ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাণীর গুঢ় অর্থ  নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-

ভগবানের নির্দেশ অনুযায়ী এ পৃথিবীতে মানুষের কেবল কর্তৃত্ববিহীন কর্ম্ম করাই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে যে মানুষের কর্ম্ম দুভাগে বিভক্ত। যথা – (১) কর্তৃত্ত্ব কর্ম্ম এবং (2) কর্তৃত্ত্ববিহীন কর্ম্ম।

কর্তৃত্ত্ব নিয়ে কর্ম্ম করলে স্বার্থ ও দাম্ভিকতার পরিচয় পাই।  ইহাতে লাভ লোকসান নিয়ে মানুষ ব্যতিব্যস্ত থাকে। তাদের কামনা বাসনার কোনদিন অন্ত হয় না। তাদের একটা অভাব পূর্ণ হলে আবার আরেকটা চেয়ে বসে। তাই তাদের অভাবের শেষ নেই। তারা ভগবানের নাম ভুলে যান।

কর্তৃত্ত্ববিহীন কর্ম্ম হল শ্রেষ্ঠ কর্ম্ম। এ ধরনের মানুষ অত্যন্ত সিমিত। তারা অত্যন্ত সৎ, নিঃস্বার্থপরায়ণ এবং নিষ্ঠাবান ও ধর্ম্মপরায়ণ। তারা জানেন ভগবানই একমাত্র কর্ত্তা। তারা যাবতীয় কর্ম্ম ভগবানের শ্রীচরণ যুগলে ১০০% সমর্পণ করে সত্য পথে এগিয়ে চলেন বলে তাদের কোন অভাব নেই। একেই অকর্ত্তা কর্ম্ম বলে।

উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে কর্তৃত্ববিহীন কর্ম্ম করাই আমাদের একমাত্র সাধনা। তাই ভগবানের অর্থাৎ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের  শ্রীচরণ যুগলে আমাদের সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১০০% সমর্পণ করতে হবে এবং সত্য পয ধরে অকর্তৃত্ত্ব ভাবে, নিঃস্বার্থপরায়ণ, নিষ্ঠাবান ও ধর্ম্মপরায়ণ হয়ে উপস্থিত যাবতীয় কর্ম্ম সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে: তবে আর কোন অভাব থাকবে না। 

সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

সংসারের সারই ভগবান- ১/৫৬ বেদবাণী।

” সংসারের সারই ভগবান, জীব ভাবের এই শক্তি।” –  ১/৫৬ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত  শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর একটি মাত্র বাক্যের সমার্থ নিম্নে বর্ণিত হল:-

সংসার = সম+ সার; অর্থাৎ নিরপেক্ষ থেকে সর্ব্ব জীবে সমান ভাবে প্রেম ভাব ও ভালবাসা বজায় রাখা। আর সংসারে অনাসক্ত হয়ে নিঃস্বার্থভাবে কর্তৃত্ত্ববিহীন হয়ে ভগবানের উপর ১০০% সমর্পণ করে নিষ্ঠা সহকারে সংসার সুচারুরূপে প্রতিপালন যিনি  করেন তাকেই সংসার বলে। ইহাই সংসারের সাৱ। এ সারই হল ভগবান। যিনি সংসারের এ ভাবের শক্তি অর্জন করতে সক্ষম হন, তখনই তিনি সংসার সমুদ্র পার করতে সক্ষম হন। তখন ভগবান ভক্তকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে যান। তাই সংসারের ভাবের সারকেই ভগবান বলে।

উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশের  একটি মাত্র বাক্য থেকে শিক্ষনীয় এই যে শ্রী শ্রী ঠাকুরের শ্রী চরণ যুগলে ১০০% অর্থাৎ সম্পূর্ণ সমর্পণ করে শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশ বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করে অর্থাৎ  শ্রীগুরু প্রদত্ত “শ্রীনামের” অনুশীলনের মাধ্যমে শ্রীগুরুর প্রতি দৃঢ়  অন্ধ বিশ্বাস রেখে শ্রদ্ধা ও ভক্তি এবং ধৈর্য্য সহকারে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি; তবে শ্রীগুরু কৃপায় যখন যাবতীয় কামনা বাসনা ত্যাগ হবে এবং এ জগতের সমগ্র ঋণ পরিশোধ হবে, তখনই সংসার সারের ভাব শক্তির জাগরণ হবে।

সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *