পতিব্রতা ধর্ম্ম – ১/৫৭ বেদবাণী।
” পতিব্রতা ধর্ম্ম –
অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্য্যুপাসতে।
তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম।।
এই যে ভাব ইহা ছাড়া আর কিছুই চায় না, জানে না, অন্য কিছুর দরকার নাই। মহা ঐশ্চর্য্য প্রলোভনের আবাহনকেও তুচ্ছ করে। তাহাকেই পতিব্রতা ধর্ম্ম বলে। গুরু ধ্যানং তথা নিত্যং দেহী ব্রহ্মময়ো ভবেৎ ইত্যাদি। গুরুব্রহ্মা গুরুঃ বিষ্ণু গুরুদ্দেব গুরুগতিঃ, গুরুরের পরং ব্রহ্ম তষ্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ ইত্যাদিতে পতিব্রতা জাগাইয়া রাখিয়াছে। অর্থাৎ অদ্বৈত ভাব হৃদয়ে রাখা” ১/৫৭ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাণীর গুঢ় অর্থ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-
পতিব্রতা ধর্ম্ম বলতে কি বোঝায় – শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর শ্রীমদ্ভাগবৎ গীতার অত্যন্ত মূল্যবান শ্লোক দুটি দিয়ে আমাদেরকে তুলে ধরেছেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্থাৎ এখানে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই বলছেন, “যে ভক্তগণ আমার চিন্তায় মগ্ন (নিত্যাভিযুক্ত) অর্থাৎ শ্রীনামের মাধ্যমে ভগবানের সঙ্গে নিত্য যোগ রেখে অনন্যভাবে (অন্য কোন চিন্তা না করে) কেবল আমারই উপাসনা করে এবং যাহাদের যাহা নেই ( যোগ্) তাহা আমি তাহাদেরকে প্রদান করি ও যাহা আছে (ক্ষেম অর্থাৎ মঙ্গল) তাহা আমি রক্ষা করি।” যারা সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১০০% ভগবানের শ্রীচরণ যুগলে সমর্পণ করেছেন, তারা এ ভাব ছাড়া আর কিছুই চান না, জানেন না, তাদের অন্য কিছুর দরকার নেই। তারা অস্থায়ী মহা ঐশ্চর্য্যের প্রলোভনে পরেন না এবং আবাহনকে তুচ্ছ করেন। যখন এ অনন্যভাব ভক্তের হৃদয়ে জেগে ওঠে, তখন ভক্তের এ ভাবকে পতিব্রতা ধর্ম্ম বলে।
ভক্ত ভক্তির উচ্চস্তরে পৌঁছলে তখন কেবল শ্রীগুরু ধ্যানই অন্তরে জাগরিত থাকে ও তথা নিত্যং দেহী অর্থাৎ সর্ব্বদা জীবাত্মা পরমাত্মার ধ্যানে নিমগ্ন হেতু ব্রহ্মময় জ্ঞান অর্জন করেন অর্থাৎ ব্রহ্মস্বরূপ উপলব্ধি হয়। তাই গুরুই ব্রহ্মস্বরূপ, গুরুই বিষ্ণু ও শ্ৰীগুরুতেই জীবাত্মার গতি। শ্রীগুরুই পরমব্রহ্মস্বরূপ। তাই শ্রীগুরুর শ্ৰীচরণ যুগলে ভক্তিপূর্ণ প্ৰণাম জানাই। শ্রীগুরুর প্রতি এরূপ দৃঢ় প্রত্যয়, অন্ধ বিশ্বাস এবং অনন্য ভাব চিন্তা ও ভক্তি নিয়ে নিমগ্ন থাকাকেই পতিব্রতা বলে।
উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে আমাদের পতিব্রতা ধর্ম্ম পালন করাই একমাত্র সাধনা। তাই ভগবানের অর্থাৎ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের শ্রীচরণ যুগলে আমাদের সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১০০% সমর্পণ করতে হবে এবং সর্ব্বদা শ্রীগুরুর প্রতি দৃঢ় প্রত্যয়, অন্ধ বিশ্বাস এবং অনন্য ভাব চিন্তা ও ভক্তি নিয়ে শ্রীগুরুর মূর্ত্তি এবং শ্রীগুরুর শ্রীচরণ যুগলে ধ্যানে নিমগ্ন থাকতে হবে। ইহাকেই পতিব্রতা ধর্ম্ম পালন বলে।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।
আনন্দবান আনন্দবর্ষণ করেন – ১/৫৮ বেদবাণী।
” সংসার মায়াময়। যত রকমই চঞ্চল হউক না কেন ততই আনন্দবান আনন্দবর্ষণ করিয়া থাকেন।” – ১/৫৮ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর দুটি বাক্যের মমার্থ নিম্নে বর্ণিত হল:-
সংসার = সম+ সার; অর্থাৎ নিরপেক্ষ থেকে সর্ব্ব জীবে সমান ভাবে প্রেম ভাব ও ভালবাসা বজায় রাখা। আর সংসারে অনাসক্ত হয়ে নিঃস্বার্থভাবে কর্তৃত্ত্ববিহীন হয়ে ভগবানের উপর ১০০% সমর্পণ করে নিষ্ঠা সহকারে সংসার সুচারুরূপে প্রতিপালন যিনি করেন তাকেই সংসার বলে। ইহাই সংসারের সাৱ। নচেৎ সংসারে মায়াবদ্ধ হলে সত্য বস্তুর উপলব্ধি হয় না। তাই সংসারের সার বস্তুকে যিনি গ্রহণ করেছেন তার মন যতই চঞ্চল হউক না কেন ততই আনন্দবান অর্থাৎ ভগবান আনন্দবর্ষণ করে থাকেন।
উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই আনন্দবান। তিনি আমাদের সকলকে সংসারে নির্লিপ্ত থেকে নিঃস্বার্থভাবে কর্তৃত্ত্ববিহীন হয়ে ভগবানের উপর ১০০% সমর্পণ করে নিষ্ঠা সহকারে সংসার সুচারুরূপে প্রতিপালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাতে মন যতই চঞ্চল হউক না কেন ততই আনন্দবান (এখানে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর) আনন্দবর্ষণ করছেন এবং করবেন। ইহাই শ্রী শ্রী ঠাকুরের আমাদের উদ্দেশ্যে অভয় বাণী; নচেৎ সংসার মায়াতে হাবিডুবি খেতে হবে।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।