কষ্ট নিবারণ করাই জীবের ধর্ম্ম- ১/৫৯ বেদবাণী।
” যে পর্য্যন্ত দেহ থাকে সেই পর্য্যন্ত কষ্ট নিবারণের জন্যই চেষ্টা করা জীবের ধর্ম্ম। প্রত্যেক শরীরের মধ্যে ভগবান সুখময় বিরাজ করেন, ভ্রান্তিবশতঃই কর্তৃত্বাভিমানী সূত্রে নানা রকম দেখিতে পায়। অতএব যাহাতে অন্তকাল পর্যন্ত কষ্ট না পায় তাহারই চেষ্টা যথাসাধ্য করিতে হয়।” – ১/৫৯ বেদবাণী। শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাণীর গুঢ় অর্থ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-
শাস্ত্রে বলে যে ৮৪ লক্ষ জনমের পর জীব মানব দেহ নিয়ে জন্ম গ্রহন করেন এবং ইহাই শ্রেষ্ঠ জনম। এ দেহ অস্থায়ী এবং নশ্বর; তথাপি এ দেহ যতদিন পর্যন্ত থাকবে ততদিন পর্যন্ত কষ্ট নিবারণ/ দূর করার চেষ্টা করাই জীবের ধর্ম্ম। কেননা প্রত্যেক জীবের মধ্যে সুখদাতা / মঙ্গল বিধান কর্তা ভগবান বিরাজমান। কর্তৃত্বাভিমান থাকার দরুণ সংসারে ভ্রান্তিবশতঃ ভগবান যে আমাদের প্রত্যেক্যের মধ্যে বিরাজমান তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি না বা দেখতে পাই না। অতএব যাতে অন্তকাল পর্যন্ত কষ্ট না হয় তারই চেষ্টা যথাসাধ্য আমাদের করা উচিৎ অর্থাৎ যেহেতু এ দেহ নশ্বর সেহেতু দেহান্ত না হওয়া পর্যন্ত সংসারের সব রকম বাধা বিঘ্ন যতই আসুক না কেন আমরা সহনশীলতা ও ধৈর্য্য সহকারে কষ্ট নিবারণ করার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাব। কোন ভয় নেই শ্রীগুরুজি সর্ব্বদা আমাদের সঙ্গে আছেন অর্থাৎ ভগবান শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর সর্ব্বদা আমাদের রক্ষা করছেন। এ দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে শ্রীগুরুর নির্দেশিত পথে এগিয়ে চললে এবং সর্ব্বদা শ্রীগুরু প্রদত্ত শ্রীনামের অনুশীলন ভক্তি, শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা সহকারে করতে হবে। শ্রীগুরু বাক্য শিরোধার্য মেনে এ ভাবে এগিয়ে চলতে চলতে সকল কষ্ট নিবারণ করতে আমরা সক্ষম হব।
উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে শ্রী শ্রী ঠাকুরের শ্রী চরণ যুগলে ১০০% অর্থাৎ সম্পূর্ণ সমর্পণ করে শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশ বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করে অর্থাৎ শ্রীগুরু প্রদত্ত “শ্রীনামের” অনুশীলনের মাধ্যমে শ্রীগুরুর প্রতি দৃঢ় অন্ধ বিশ্বাস রেখে শ্রদ্ধা ও ভক্তি এবং ধৈর্য্য সহকারে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি; তবে শ্রী গুরু কৃপায় সকল বাধা বিঘ্ন কষ্ট নিবারণ করতে আমরা সক্ষম হব।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।
সর্ব্বদা পতিসেবায় নিযুক্ত থাকা – ১/৬০ বেদবাণী।
” সংসার মায়াময় ভ্রান্তিমুগ্ধ অস্বাভাবিক গতি। ইহাদের হাত চালন হইতে নিষ্কৃতির একমাত্র পতিব্রতা ভগবৎসেবা ভিন্ন অন্য কিছুই নাই। অতএব সর্ব্বদা পতিসেবায় নিযুক্ত থাকিতে চেষ্টা করিবেন৷ অচিরে ভগবান কৃপা করিয়া সকল অশান্তি ভ্রান্তি বিবিধ অভাব নাশ করিয়া নিত্যানন্দ আবরণ করিবেন।” – ১/৬০ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্ৰী শ্ৰী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর মর্মার্থ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-
সংসার = সম+ সার; অর্থাৎ নিরপেক্ষ থেকে সর্ব্ব জীবে সমান ভাবে প্রেম ভাব ও ভালবাসা বজায় রাখা। আর সংসারে অনাসক্ত হয়ে নিঃস্বার্থভাবে কর্তৃত্ত্ববিহীন হয়ে ভগবানের উপর ১০০% সমর্পণ করে নিষ্ঠা সহকারে সংসার সুচারুরূপে প্রতিপালন যিনি করেন তাকেই সংসার বলে। এ ছাড়া সংসার মায়াতে প্রলোভিত হলে ভ্রান্তিমুগ্ধ হয়ে সত্য বস্তুকে জানতে পারে না। ইহার হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে হলে একমাত্র ভগবৎ সেবা ভিন্ন আর কিছুই নেই। তাই সর্ব্বদা পতি সেবাতে নিযুক্ত থাকতে চেষ্টা করতে হবে। এখানে পতি বলতে ভগবান অর্থাৎ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই আমাদের পতি। তাই নামের সেবা করলেই ভগবানের সেবা হল। এভাবে সর্ববদা ভগবানের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে পারলে শ্রী গুরু কৃপা প্রাপ্ত হবে এবং অচিরে ভগবান কৃপা করিয়া সকল অশান্তি ভ্রান্তি বিবিধ অভাব নাশ করিয়া নিত্যানন্দ আবরণ করিবেন।
উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে সংসার মায়ার জগৎ থেকে নিষ্কৃতি পেতে হলে সর্ব্বদা পতিসেবা অর্থাৎ ভগবানের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখাই আমাদের একমাত্র সাধনা। তাই ভগবানের অর্থাৎ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের শ্রীচরণ যুগলে আমাদের সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১০০% সমর্পণ করতে হবে এবং সর্ব্বদা শ্রীগুরুর প্রতি দৃঢ় প্রত্যয়, অন্ধ বিশ্বাস এবং অনন্য ভাব চিন্তা ও ভক্তি নিয়ে শ্রীগুরুর মূর্ত্তি এবং শ্রীগুরুর শ্রীচরণ যুগলে ধ্যানে নিমগ্ন থাকতে হবে। ইহাকেই পতিব্রতা ধর্ম্ম পালন বলে। এভাবে সর্ববদা ভগবানের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে পারলে শ্রী গুরু কৃপা প্রাপ্ত হবে এবং সকল অশান্তি ভ্রান্তি বিবিধ অভাব নাশ হয়ে নিত্যানন্দ সাগরে ডুবে অমৃত ৱস আস্বাদন করতে সক্ষম হব।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।