প্রারব্ধ বেগ সহ্য করা – ১/৫১ বেদবাণী।
” অকাতরে প্রারব্ধ বেগ সহ্য করিয়া সকল অভাব মুক্ত হইতে চেষ্টা করিবে।” – ১/৫১ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর একটি মাত্র বাক্য দ্বারা উপলব্ধির উপর বিশ্লেষণ নিম্নে বর্ণিত হল।
এখানে অকাতরে বলতে বোঝায় যে কোন ভাবেই কাতর না হওয়ার আমাদের প্রতি শ্রী শ্রী ঠাকুরের নির্দেশ। আমরা যাতে অকাতরে প্রারব্ধ (প্রারব্ধ = প্রা+র+ ৰূ। প্ৰা বলতে প্রাক্তন , র বলতে রত ও ব্ধ বলতে লব্ধ ভোগ নির্ধারিত বোঝায় অর্থাৎ প্রাক্তন জনিত ভোগ নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভোগ একত্রিত প্রাপ্ত ভোগ নির্ধারিত।) বেগ ধৈর্য্য সহকারে সহ্য করে সকল অভাব থেকে মুক্ত হতে চেষ্টা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ইহাই শ্রী শ্রী ঠাকুরের নির্দেশ।
উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশের একটি মাত্র বাক্য থেকে শিক্ষনীয় এই যে শ্রী শ্রী ঠাকুরের শ্রী চরণ যুগলে ১০০% অর্থাৎ সম্পূর্ণ সমর্পণ করে শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশ বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করে অর্থাৎ শ্রীগুরু প্রদত্ত “শ্রীনামের” মাধ্যমে শ্রীগুরুর প্রতি দৃঢ় অন্ধ বিশ্বাস রেখে শ্রদ্ধা ও ভক্তি এবং ধৈর্য্য সহকারে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি; তবে শ্রীগুরু কৃপায় যখন যাবতীয় কামনা বাসনা ত্যাগ হবে এবং এ জগতের সমগ্র ঋণ পরিশোধ হবে, তখনই প্রারব্ধ ভোগ সম্পূর্ণ সমাপ্ত করতে সক্ষম হব। এ অবস্থায় সকল অভাব মুক্ত হয়ে যায় এবং সত্যলোক প্রাপ্তি হবে।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।
কর্তৃত্ত্ববিহীন কর্ম্মই সাধন। – ১/৫২ বেদবাণী।
” কৃষ্ণের পুত্রাদি যদু বংশকে তাহাদের প্রকৃতি ভোগের নিমিত্ত নিষেধ বিধান কৃষ্ণ হইতে হয় নাই। তাহাদের প্রবৃত্তির উৎসুকের কর্ম্ম সর্ব্বথাই করিয়াছিল। তাহার কারণ যদুবংশীয়গণ নিশ্চয় কৃষ্ণই কর্ত্তা জানিত, এই জন্য তাদের কর্তৃতাভিমান ছিল না। ইহাই সাধন। আত্মাই দেহের কর্ত্তা, প্রারব্ধ ভোগই দেহের কর্ম্ম, এই জ্ঞানে অভিমানী হইয়া অতি দুরাচারীও নিত্যমুক্তি লাভ করিতে পারে। কর্তৃত্ত্বভাবে অহংবুদ্ধি দ্বারা নিজ ক্ষমতা চারণ দ্বারা যে সমন্ত সৎ অসৎ কর্ম্ম সমাধা করে তাহার দ্বারা কর্তৃ্ত্বাভিমানী হইয়া কর্ম্মপাশে বন্দী হয়, কর্ম্ম মুক্ত হয় না। অতএব এটি করিব এটি করিব না করিয়া যে সকল কর্ম্মে নিযুক্ত হইবে তাহা সফল হয় না। প্রারব্ধ যে আছে তাহার ভোগ সেই ইন্দ্রিয়গণকে দিয়া, লক্ষ্য সহিষ্ণুতার দিকে রাখিয়া গুরুর উপর ন্যস্ত করিয়া নিয়ত প্রাণের নিকট থাকিতে সর্ববদা চেষ্টা করিবেন। যখন যে ভোগের বেগ সহ্য না হয়, তাহা করিলেও দোষ থাকে না।” – ১/৫২ বেদবাণী । শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।
উপরোক্ত শ্ৰী শ্ৰী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর মর্মার্থ উপলব্ধির উপর বিশ্লেষণ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-
কৃষ্ণের যদু বংশের যারা ছিলেন, তাদের প্রকৃতির অর্থাৎ সত্ব, রজ ও তম এ তিন গুণের প্রভাবের জন্য যে সকল ভোগের স্বভাব প্রাপ্ত হয়েছিল: তার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বোন রকম বিধি নিষেধ করেন নি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জানতেন যে তারা তাদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী উৎসাহিত হয়ে কর্ম্ম সর্ব্বদা করতেন। যদুবংশীযগণের একটা বিশেষ গুণ ছিল – তা হল এই যে তারা জানতেন যে শ্রীকৃষ্ণই তাদের কর্তা অর্থাৎ ভগবান৷ তাই তারা সর্ব্বদা কর্তৃত্ত্ববীহিন হয়ে যাবতীয় কর্ম করতেন। তারা তাদের কর্তৃত্ত্ব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণ যুগলে সম্পূর্ণ দিয়ে রেখেছিলেন। ইহাই সাধন। আত্মাই দেহের কর্তা। প্রারব্ধ (প্রারব্ধ = প্রা+র+ ৰূ। প্ৰা বলতে প্রাক্তন , র বলতে রত ও ব্ধ বলতে লব্ধ ভোগ নির্ধারিত বোঝায় অর্থাৎ প্রাক্তন জনিত ভোগ নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভোগ একত্রিত প্রাপ্ত ভোগ নির্ধারিত।) ভোগই কর্ম্ম, এ জ্ঞান অর্জন হলে অভিমানী হয়ে অতি দূরাচারীও মুক্তি লাভ করতে পারে। কেননা কর্তৃত্বাভিমানী হলে অহংকার বুদ্ধির উদয় হয় এবং তাতে সকল সৎ অসৎ কর্ম্ম করে ক্ষমতার দূর প্রয়োগ করে সাময়িক জগতে খ্যাতি অর্জন করে এবং কর্তৃত্ত্ব করার দরুণ কর্ম্ম পাশে বন্দী হয়, কিন্তু কর্ম্ম হতে মুক্তি লাভ করতে পারেন না। তাই দিশেহারা হয়ে মানুষ কি করণীয় তা বুঝতে পারেন না; অর্থাৎ কর্ম্ম পথে নানা বাধা আসে বলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হন এবং ভাল মন্দ কাজ করার বোধ শক্তি আসে না। তাই শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের আমাদের প্রতি অভয় বাণী – প্রারব্ধ ভোগ যা আসে তা ইন্দ্রীয়গনের প্রভাবে লক্ষ্য সহিষ্ণুতার দিকে রেখে শ্রীগুরুর উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে নিয়ত প্রাণের নিকট থাকিতে সর্ববদা চেষ্টা করতে বলেছেন; অর্থাৎ প্রাণের নিকট থাকার অর্থ হল – সর্ব্বদা যে কোন অবস্থায় শ্রীগুরু প্রদত্ত “শ্ৰীনাম” শ্রদ্ধা ভক্তি ও নিষ্ঠা সহকারে জপ করাই হল প্রাণের নিকট থাকা। শ্রীগুরু বাক্য অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই আমাদের পরম ধর্ম্ম। শ্রী শ্রী ঠাকুর আরও সহজ করে অভয় দান করেছেন যে যখন যে ভোগের বেগ সহ্য না হয়, তাহা করিলেও দোষ থাকে না।
উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে কর্তৃত্ববিহীন কর্ম্ম করাই আমাদের একমাত্র সাধনা। তাই ভগবানের শ্রীচরণ যুগলে আমাদের সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১০০% সমর্পণ করতে হবে। এর জন্য আমাদের শ্রীগুরু প্রদত্ত শ্ৰীনাম ভক্তি শ্রদ্ধা, অকৃত্তিম প্রেম ভালবাসা, দৃঢ় প্রত্যয় অন্ধ বিশ্বাস ও নিষ্ঠা সহকারে সর্ব্বদা জপ করতে করতে প্রারব্ধ ভোগ যখন সম্পূর্ণ অন্তর্হিত হবে, তখনই কর্ম মুক্ত হবে এবং ভগবান প্রাপ্তি অবশ্যম্ভাবী। ইহাই শ্রী শ্রী ঠাকুরের আমাদের প্রতি অত্যন্ত মূল্যবান উপদেশ।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।