Vedvani 61 & 62 (P-I)

পরাত্মিকা বুদ্ধি ১/৬১ বেদবাণী।

” সংসার মারাময়, ভাগ্যবশতঃ জীবের গতাগতি কর্ম্ম  অকর্ম্ম, লাভ হইয়া সুখী দুঃখী হইয়া থাকে। ভগবানের নিত্য সেবার বাসনার আশ্রয়ে জীব ভাবের নিত্যতৃপ্ততা হেতু জন্ম কর্ম্ম সমাপ্ত হইয়া নিত্যমুক্তির আশ্রয় পায়। গুণাদি তারতম্যতা হেতু অভিমানী বশত: কর্ম্মানুগামী হয়। অহংকারাদি সূত্রে পতন হইয়া পরাত্মিকা বুদ্ধির মলিনত্ব হয়, তাহা নিবারণের জন্য ভগবানের স্থল হইতে কর্ম্ম লইয়া কর্ম্ম তদুদ্দেশে সমাপ্ত করিতে চেষ্টা করাই জীবের কর্ত্তব্য কর্ম্ম।”  – ১/৬১  বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত  শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর সমার্থ নিম্নে বর্ণিত হল:-

সংসার = সম+ সার; অর্থাৎ নিরপেক্ষ থেকে সর্ব্ব জীবে সমান ভাবে প্রেম ভাব ও ভালবাসা বজায় রাখা। আর সংসারে অনাসক্ত হয়ে নিঃস্বার্থভাবে কর্তৃত্ত্ববিহীন হয়ে ভগবানের উপর ১০০% সমর্পণ করে নিষ্ঠা সহকারে সংসার সুচারুরূপে প্রতিপালন যিনি  করেন তাকেই সংসার বলে। ইহাই সংসারের সাৱ। এ সারই হল ভগবান। কিন্তু সংসার মায়াতে আবদ্ধ হয়ে ভাগ্যবশতঃ জীবের গতাগতি কর্ম্ম  অকর্ম্ম, লাভ হয় এবং  সুখী দুঃখী হয়ে থাকে। যাদের মধ্যে ভগবানের নিত্য সেবা করার বাসনা থাকে তাদেরকে সংসারের মায়া ষ্পৰ্শ করতে পারে না। কেননা তারা ভগবানের আশ্রয়ে থেকে নিত্যতৃপ্ততা লাভের জন্য অর্থাৎ পরমাত্মার উপলব্ধির জন্য এ জন্ম কর্ম্ম সমাপ্ত যাতে হয় তারই প্রচেষ্টা সর্ব্বদা নিজেকে আত্ম নিয়োগ করেন। এ ভাবে এগিয়ে চলতে চলতে ভক্ত নিত্যমুক্তির আশ্রয় পান। সত্ব, রজ ও তম এ তিন গুণের  তারতম্যতার জন্য বিভিন্ন লোকের আচার আচরণ প্রকাশ পায় এবং কেহ কেহ অভিমানী বশত: কর্ম্মানুগামী হয়। ইহাতে  অহংকারাদি সূত্রে তার পতন হয়। তাতে তার পরাত্মিকা অর্থাৎ পরমাত্মার স্বরূপ উপলব্ধি হয় না অর্থাৎ বুদ্ধির মলিনত্ব হয়, তা নিবারণের জন্য ভগবানের স্থল থেকে কর্ম্ম  নিয়ে কর্ম্ম তদুদ্দেশে সমাপ্ত করতে চেষ্টা করাই জীবের কর্ত্তব্য কর্ম্ম। এখানে ভগবানের স্থল বলতে শ্রী গুরু প্রদত্ত শ্ৰীনামকেই বোঝায। তাই সর্ব্বদা ঐ শ্রীনামের অনুশীলনই আসল কর্ম্ম এবং ভগবানের উদ্দেশ্যে এ কর্ম্ম করতে করতে এ জগতের কর্ম একদিন সমাপ্ত হয়ে যাবে।

উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশের  বাণী থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে শ্রী শ্রী ঠাকুরের শ্রী চরণ যুগলে ১০০% অর্থাৎ সম্পূর্ণ সমর্পণ করে শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশ বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করে অর্থাৎ  শ্রীগুরু প্রদত্ত “শ্রীনামের” অনুশীলনের মাধ্যমে শ্রীগুরুর প্রতি দৃঢ়  অন্ধ বিশ্বাস রেখে শ্রদ্ধা ও ভক্তি এবং ধৈর্য্য সহকারে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি; তবে শ্রীগুরু কৃপায় যখন যাবতীয় কামনা বাসনা ত্যাগ হবে এবং এ জগতের সমগ্র ঋণ পরিশোধ হবে, তখনই পরাত্মিকার বুদ্ধি শক্তির জাগরণ করতে আমরা সক্ষম হব; নচেৎ সংসার মায়ায় হাবিডুবি খেতে হবে।

সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

স্বধর্মের সঙ্গে সম্বন্ধ – ১/৬২ বেদবাণী।

” সম্বন্ধ, বৈধেয়, প্রয়োজন।  সম্বন্ধ করিলে বিয়োগ ঘটে না।  কর্ত্তৃত্বাভিমানীর কর্ম্ম চেষ্টার দ্বারা শক্তিহীন (জরা) সম্বন্ধ ঘটিয়া ক্ষরত্ব ফল ভোগ করিয়া থাকে। গতাগতি কামকাম্য লাভ মাত্র প্রাপ্ত হয়। অদ্বৈত চেতা হইয়া অকর্ত্তাবুদ্ধির দাসত্ব পরমানন্দ প্রসব করিয়া থাকে। ভগবৎ কৃপা ব্যতীত কিছুই হইতে পারে না। অতএব সর্ব্বদা ভগবৎ কৃপার প্রতিক্ষায অবহিত হইয়া ভগবৎকুল স্বভাব মাতৃপদ আশ্রয় করিয়া থাকিতে হয়, ইহাই স্বধর্ম। মাতা স্বভাব, পিতা ধর্ম্ম এই দুই মিলনকে স্বধর্ম বলে। এই অবস্থায় থাকিলে আনন্দের আনন্দ উৎপন্ন হয়। ইহাই নন্দের নন্দন লাভ করা। ব্রহ্ম, আত্মা, ভগবান উপাধি হয়। অতএব সর্ব্বদা সৎসঙ্গ করিতে করিতে নিত্যানন্দ স্বরূপ ভগবৎ পদ লাভ করিতে পারিবেন৷ অহংকার চিন্তা করিবেন না, বাসনাই বন্ধনের কারণ।” – ১/৬২ বেদবাণী। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

উপরোক্ত  শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ বাণীর সমার্থ নিম্নে বর্ণিত হল:-

বিধির বিধান অনুযায়ী সম্বন্ধ অবশ্যই প্রয়োজন।  সম্বন্ধ করলে বিয়োগ হয় না। এখানে সম্বন্ধ বলতে পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার সম্বন্ধ যা সর্ব্বদা অহরহ ভক্তি শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা সহকারে শ্রীগুরু প্রদত্ত শ্রীনামের জপ করতে করতে   জীবাত্মা যখন পরমাত্মার সঙ্গে লীন হয়ে যাবে তখন আর বিয়োগ হয় না, নিত্য যুক্ত থাকে।  কিন্তু যারা দাম্ভিক ও কর্ত্তৃত্বাভিমানী, তারা কর্ম্ম চেষ্টার দ্বারা যা কিছু করেন তা শক্তিহীন (জরা) সম্বন্ধ, অস্থায়ী। তাই  তাদের ক্ষরত্ব ফল ভোগ প্রাপ্ত হয়ে থাকে অর্থাৎ গতাগতি কামকাম্য লাভ মাত্র প্রাপ্ত হয়।

আবার যারা অদ্বৈত অর্থাৎ একটাই ভাব ( পরমাত্মার ধ্যান, এখানে আমাদের শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই পরামাত্মা অর্থাৎ ভগবান) নিয়ে অকর্ত্তাবুদ্ধির দাসত্ব শক্তির অর্জন করতে পারেন তারা পরমানন্দ অমৃত সুধা পান করতে সক্ষম হবেন। ভক্তের এ অবস্থায় পৌঁছতে কেবল শ্রীগুরু কৃপা অর্থাৎ ভগবৎ কৃপা ব্যতীত কিছুই হতে পারে না। অতএব সর্ব্বদা ভগবৎ কৃপার প্রতিক্ষায অবহিত হয়ে ভগবৎকুল স্বভাব মাতৃপদ আশ্রয় করে থাকতে হয়, ইহাই স্বধর্ম। এখানে উল্লেখযোগ্য যে আমরা সবাই মাতৃগর্ভে যখন ছিলাম , তখন পরম শান্তিতে মায়ের কোলে উত্তানশায়ী ছিলাম অর্থাৎ ঐ অবস্থাকে ভগবৎকুল স্বভাব বা মাতৃপদ আশ্রয় বলে এবং ইহাই স্বধর্ম। তাই মাতা স্বভাব, পিতা ধর্ম্ম এই দুই মিলনকে স্বধর্ম বলে; অর্থাৎ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই আমাদের মাতা ও পিতা বা রাধা গোবিন্দ। দুইয়ে এক ও একে দুই। ইহাই ভগবানের স্বভাব। এ অবস্থায় থাকলে আনন্দের আনন্দ উৎপন্ন হয়। ইহাই নন্দের নন্দন লাভ করা। আমাদের এ স্বধর্মের সঙ্গেই সম্বন্ধ রাখতে হবে। তাই ব্রহ্ম, আত্মা, ভগবান উপাধি হয়। অতএব সর্ব্বদা শ্রীগুরু প্রদত্ত শ্রীনামের অন্নশীলন শ্রদ্ধা ভক্তি ও নিষ্ঠা সহকারে করতে করতে কূলকুণ্ডলী শক্তির জাগরণ করতে হবে ও সৎসঙ্গ প্রাপ্ত হওয়া দরকার।  তবেই নিত্যানন্দ স্বরূপ ভগবৎ পদ লাভ করা সম্ভব হবে৷ তাই শ্রী শ্রী ঠাকুর আমাদেরকে অহংকার চিন্তা  করতে নিষেধ করেছেন। কেননা  বাসনাই বন্ধনের কারণ।

উপসংহার:- উপরোক্ত শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের উপদেশ থেকে আমাদের শিক্ষনীয় এই যে  শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরই আমাদের মাতা ও পিতা বা রাধা গোবিন্দ।  ইহাই স্বধর্ম। তাই শ্রী শ্রী ঠাকুরের শ্রী চরণ যুগলে ১০০% অর্থাৎ সম্পূর্ণ সমর্পণ করে শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপদেশ বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করে অর্থাৎ  শ্রীগুরু প্রদত্ত “শ্রীনামের” অনুশীলনের মাধ্যমে শ্রীগুরুর প্রতি দৃঢ়  অন্ধ বিশ্বাস রেখে শ্রদ্ধা ও ভক্তি এবং ধৈর্য্য সহকারে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি; তবে শ্রী গুরু কৃপায় সকল বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে স্বধর্মের সঙ্গে সম্বন্ধ করতে আমরা সক্ষম হব।

সকলকে সশ্রদ্ধ প্রনাম, আন্তরিক ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। জয় রাম। প্রদ্যোৎ কুমার ভৌমিক (চন্দন ভৌমিক্), সম্পাদক, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রম, হরিদ্বার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *